📌 ১৬ বছর বয়সী কক্সবাজারের ফাতেমা আক্তার কোনো কোচ ছাড়াই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছেন। জাপানের এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে তিনি প্রথম দিনে উত্তীর্ণ হলেও দ্বিতীয় দিনে হেরে গেলেও তার সংগ্রাম প্রশংসিত হচ্ছে
কক্সবাজারের সৈকতের উত্তাল জলরাশি থেকে শুরু করে জাপানের আন্তর্জাতিক মাঠে পা রাখা — ১৬ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার (১৬) এক অদ্ভুত সফর করে চলেছেন। সৈকতের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তিনি এখন বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে এশিয়ান গেমসে অংশ নেন। জাপানের আইচি-নাগোয়া সৈকতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের সার্ফিং প্রতিযোগিতায় ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি প্রথম দিনে উত্তীর্ণ হলেও দ্বিতীয় দিনে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন। তবে তার সংগ্রাম ও প্রতিভা প্রশংসিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে জাপানের এশিয়ান গেমসে অংশ নেন।
- 📌 ২০ সেপ্টেম্বর জাপান যাত্রা করে ফাতেমা, যেখানে ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 কোনো কোচ ছাড়াই তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং প্রথম দিনে উত্তীর্ণ হন।
- 📌 কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া থেকে আসা ফাতেমা শৈশবে বাবাকে হারান এবং পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসেবে তার সংগ্রামের গল্প বিশেষ।
- 📌 সৈকতে শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে মালা তৈরি করে বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাতেন ফাতেমা।
- 📌 সার্ফিং শুরু করার পর তিনি নানা কটূক্তির মুখোমুখি হন, এমনকি একবার সাত দিন সার্ফিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
ফাতেমা আক্তার কক্সবাজারের সৈকতের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন ঢেউয়ের সঙ্গে। প্রতিদিন ভোরে সৈকতের জলে নেমে তিনি সার্ফিংয়ে নিজের স্বপ্নের দিকে অগ্রসর হন। শৈশবে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসেবে তার সংগ্রামের গল্প বিশেষ। শামুক-ঝিনুক কুড়িয়ে মালা তৈরি করে বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে সেই মালা বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যেত, তা দিয়েই চলত সংসার।
ফাতেমা ঘোনাপাড়ার সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন। বড় দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গেলে পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব বেড়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতে যেতেন তিনি। সেখানে অন্যদের সার্ফিং করতে দেখে তারও সার্ফিং শেখার ইচ্ছা জাগে। মায়ের সঙ্গে থেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে সার্ফিং শেখেন তিনি। এখন তিনি শহরের পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
সার্ফিং শুরু করার পর থেকেই ফাতেমাকে নানা কটূক্তি ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরিবারকেও শুনতে হয়েছে নানা কথা। এমনকি একবার সাত দিন সার্ফিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল তাঁকে। তবে এসব বাধা তাঁকে থামাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরে গিয়ে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। জাপানের মাটিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
"আমার স্বপ্ন ছিল দেশের বাইরে গিয়ে সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেব। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। জাপানের মাটিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কক্সবাজার (ঘোনাপাড়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড), জাপানের আইচি-নাগোয়া সৈকত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাতেমা আক্তার (১৬), কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর বয়স, ২৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর (প্রতিযোগিতা), ২০ সেপ্টেম্বর (জাপান যাত্রা), ৯ নম্বর ওয়ার্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!