📌 জাপানের নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসের অবসান হয়। ১৭ হাজার খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মহাসম্মেলনে তরুণ খেলোয়াড়দের কীর্তি ও সংগঠনাত্মক অপারগতা চোখে পড়ে। চীনের ১৩ বছর বয়সী কুশলী নাবিক ইউ জিডি ও থাই স্প্রিন্টার পুরিপোল বোনসন এশিয়ান গেমসের মুখ্য কীর্তিমান হন
জাপানের নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসের অবসান হয়। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই মহাসম্মেলনে তরুণ খেলোয়াড়দের অসাধারণ কীর্তি ও সংগঠনাত্মক অপারগতার মিশ্রতা চোখে পড়ে। এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) সভাপতি শেখ জোআন বিন হামাদ আল থানি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে গেমসের অবসান ঘোষণা করেন। ২০৩০ সালের দোহা, কাতারে অনুষ্ঠিত পরবর্তী এশিয়ান গেমসের জন্য জাপান থেকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৭ হাজার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা** অংশগ্রহণ করে ৪৬৯টি স্বর্ণপদক প্রতিযোগিতায় — যা প্যারিস অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার চেয়ে বেশি
- 📌 **চীনের ১৩ বছর বয়সী নাবিক ইউ জিডি** এশিয়ান গেমসের সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়ার (এমভিপি) পুরস্কার লাভ করেন এবং টোকিও পুলে তিনটি স্বর্ণপদক জিতেন
- 📌 **জাপানের ১৭ বছর বয়সী শিন ওহাশি** ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক বিশ্ব রেকর্ড ভাঙ্গেন
- 📌 **থাই স্প্রিন্টার পুরিপোল বোনসন** ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতেন এবং পুরুষদের এমভিপি হন
- 📌 **সংগঠনাত্মক অপারগতা** সত্ত্বেও চীনের জাং জানশুও সাতটি স্বর্ণপদক জিতেন — এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রথম
- 📌 **অতিরিক্ত ২০০০ খেলোয়াড়** থাকা সত্ত্বেও সংগঠকরা মাত্র ১৫ হাজার খেলোয়াড়ের জন্য বাসস্থান ও পরিবহন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন
- 📌 **দক্ষিণ কোরিয়ার দল** গেমসের সংগঠনকে "এফ" গ্রেড দেন — সর্বনিম্ন গ্রেড
- 📌 **দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল দল** জাপানকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতলে তাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি
- 📌 **কমপক্ষে ১০০০ জন দর্শক** মাত্র উপস্থিত ছিলেন ৫০ হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে
📰 বিস্তারিত
২০তম এশিয়ান গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানে সংগঠকরা "সরল, স্ট্রিমলাইন এবং কার্যকর ইভেন্ট" করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটে। খেলোয়াড় ও দলগুলো বাসস্থান, পরিবহন ও অন্যান্য সমস্যায় ভুগেন। হংকং দলের প্রধান মিশন প্রধান ওয়ং পো-কি বলেন, “বাসস্থান, পরিবহন এবং অন্যান্য সমস্যা — অনেক দলের প্রভাব পড়েছে।”
সংগঠকরা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাথলেটস ভিলেজ নির্মাণের পরিবর্তে হোটেল, কন্টেইনার ইউনিট ও একটি ক্রুজ জাহাজে বাসস্থান প্রদান করেন। তবে মাত্র ১৫ হাজার খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার জন্য বাজেট করা হয়েছিল, যা প্রকৃতপক্ষে ২ হাজার বেশি। ফলে অনেক খেলোয়াড় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় বসে যান। কেউ কেউ আবার তাদের কক্ষে দ্বৈত বুকিং বা ভুল দলের সঙ্গীকে শেয়ার করতে বাধ্য হন। পরিবহনেও ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয় — শাটল বাস সময়মতো আসেনি বা ভুল ভেন্যুতে খেলোয়াড়দের নিয়ে যান। বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতা এই ত্রুটিগুলির কারণে দেরি হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার দল বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের দলের প্রধান মিশন প্রধান গেমসের সংগঠনকে "এফ" গ্রেড দেন — সর্বনিম্ন গ্রেড। দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ ফুটবল দল জাপানকে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জিতলেও তাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ হকি দলের জন্য উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় — যা একটি অপারগতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে দর্শকদের অনুপস্থিতির পাঁচ বছর পর, জাপানের প্রথম বড় বহু-খেলাধুলা ইভেন্টটি দর্শকদের অভাবের কারণে ব্যর্থ হয়। ৫০ হাজার আসনবিশিষ্ট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে মাত্র ১০০০ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। অনেক ভেন্যু দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় দর্শকদের উপস্থিতি আরও কমে যায়।
"Accommodation, transport and other issues — it seems a lot of teams were affected"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাগোয়া, জাপান (মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: শেখ জোআন বিন হামাদ আল থানি (ওসিএ সভাপতি), ইউ জিডি (চীনা নাবিক), পুরিপোল বোনসন (থাই স্প্রিন্টার), ওয়ং পো-কি (হংকং দলের প্রধান মিশন প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭,০০০ (খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা), ৪৬৯ (স্বর্ণপদক প্রতিযোগিতা), ১৩ (ইউ জিডির বয়স), ১০০০ (মাত্র দর্শক উপস্থিতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!