📌 অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হবে। তিনি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন
বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক বছরের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন চেহারা পাবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না, তবে এক বছরের মধ্যে বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেছেন, এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের চেহারা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হবে।
- 📌 বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- 📌 নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
- 📌 ১৬টি কোম্পানির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
- 📌 বিডিএসইসি ও ডিএসই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ নেবে।
- 📌 বিমা ও পেনশন ফান্ড থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে। এই অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পুঁজিবাজারের আকার এখনো ছোট। এই বাজারের পরিসর বড় করতে হবে এবং সে জন্য ভালো কোম্পানি, সুশাসন ও স্বনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বাজারে আসবে না, যেখানে স্বচ্ছতা ও আস্থার ঘাটতি রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে গিয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিটের এক অনুষ্ঠানে ১৬টি কোম্পানির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বিষয়ে অনেক তথ্য রাখেন এবং দেশের নেতৃত্ব, সরকারের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বাজারে স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব নিয়ে তাদের আস্থা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থের ওপর নির্ভর করে দেশ পরিচালনার দিন শেষ করতে হবে বলে অর্থমন্ত্রী বলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিপির টাকা দেবে আর আমরা দেশ চালাব, সেই দিন শেষ। আমরা দেশের আর্থিক কাঠামো পরিবর্তন করছি।’ তিনি ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যেতে হলে আন্তর্জাতিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পেনশন ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও বিমা কোম্পানিগুলোর অর্থের একটি অংশ যাতে পুঁজিবাজারের করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বিমা খাতকে পুঁজিবাজারের জন্য সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা। পুঁজিবাজার অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অদক্ষতার মধ্য দিয়ে গেছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।’
"আমাদের পুঁজিবাজারের আকার এখনো ছোট। এই বাজারের পরিসর বড় করতে হবে এবং সে জন্য ভালো কোম্পানি, সুশাসন ও স্বনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। ভালো কোম্পানি ও সুশাসনে বিশ্বাসী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বাজারে আসবে না, যেখানে স্বচ্ছতা ও আস্থার ঘাটতি রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান, ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬টি কোম্পানি, ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!