📌 জ্বালানি তেলের দাম ও বন্ডের সুদ বৃদ্ধির কারণে এশিয়ার শেয়ারবাজারে শুক্রবার দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সঙ্কট ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রেরণের আশঙ্কা বাজার উদ্বেগকে আরো বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করছেন
জ্বালানি তেলের দাম ও বন্ডের সুদ বা ইয়েল্ডের বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে শুক্রবার দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রতিবেদনে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জ্বালানি তেলের দাম ও বন্ড ইয়েল্ড বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে দিনের শেষে ২ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। হংকংয়ের বাজারে ২ শতাংশের বেশি পতন, টোকিও, সিঙ্গাপুর ও ম্যানিলা বাজারও কমেছে।
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরো যুদ্ধজাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে—যুদ্ধ শুরু করার সম্ভাবনা বাড়ছে।
- 📌 বন্ড ইয়েল্ডের উচ্চতায় পৌঁছেছে ২০০০-এর দশকের পর। ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেছেন, বাজার জুন ২০২৭ পর্যন্ত অন্তত চার দফা ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ধরে মূল্য নির্ধারণ করছে।
- 📌 ব্লুমবার্গ কমোডিটি ইনডেক্স গত ১২ মাসে ৩৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে পণ্যমূল্যনির্ভর মূল্যস্ফীতির ঢেউ তৈরি হতে পারে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোলস প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছেন।
📰 বিস্তারিত
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগামী বছর পর্যন্ত ঋণের খরচ বা সুদের হার বাড়িয়ে যেতে বাধ্য হতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় অর্থনীতির সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড দ্রুত বেড়ে যায়। শুক্রবার দিনের শুরুতে বন্ডের সুদ বা ইয়েল্ড কিছুটা কমলেও বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সঙ্কটের অবসান না হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতা ফিরে না আসায় বাজারে চাপ রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরো যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সেনা পাঠাচ্ছে। এর ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো যুদ্ধ শুরু করতে পারেন—এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ও এর সাথে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর আগামী মাসে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে।
বন্ডবাজার বিশেষজ্ঞ ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, বন্ডবাজার এখন জুন ২০২৭-এর মধ্যে অন্তত চার দফা ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ধরে মূল্য নির্ধারণ করছে। তিনি আরো বলেন, বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন। তখন একই সময়ের মধ্যে অন্তত ১০০ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা ছিল। রাজাকজাদা সতর্ক করে বলেন, পণ্যমূল্যের এই বড় ধরনের বৃদ্ধি আবারো পণ্যমূল্যনির্ভর মূল্যস্ফীতির ঢেউ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে আগের দিনের ইতিবাচক লেনদেনও এশিয়ার শেয়ারবাজারকে পতন থেকে রক্ষা করতে পারেনি। হংকংয়ের বাজারে ২ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। টোকিও, সিঙ্গাপুর, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও জাকার্তার বাজারও কমেছে। ছুটির কারণে সাংহাইয়ের শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংের শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারটি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সিডনি ও তাইপের বাজারও বেড়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোলস বা কৃষি খাতের বাইরে কর্মসংস্থানের তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর রয়েছে। গত মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর পর এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তারা। এ সপ্তাহে ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক পূর্বাভাসের চেয়ে কম আসায় ২৮ সেপ্টেম্বর পরপর দ্বিতীয়বার সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে কর্মসংস্থানের তথ্য শক্তিশালী হলে আবারও সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি জোরালো হতে পারে।
"বন্ডবাজার এখন জুন ২০২৭-এর মধ্যে আরো চার দফা ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ধরে মূল্য নির্ধারণ করছে।" — ফাওয়াদ রাজাকজাদা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: এশিয়ার বিভিন্ন দেশ (হংকং, টোকিও, সিঙ্গাপুর, ম্যানিলা, জাকার্তা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিডনি, তাইপে), যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফাওয়াদ রাজাকজাদা, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিলিপ জেফারসন, মিশেল বোম্যান, জন উইলিয়ামস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ বেসিস পয়েন্ট, ১০০ বেসিস পয়েন্ট, ৩৭ শতাংশ, ১২ মাস, ২ শতাংশ, ২৮ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!