📌 ভারতের মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে তীব্র মন্দা সৃষ্টি হয়েছে। চার দিনে বাজার থেকে উধাও হয়েছে ৪ লাখ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতের পতন, বিদেশি মূলধন প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক তেল দামের উচ্চতাই মূল কারণ
ভারতের শেয়ারবাজারে আজ সোমবার তীব্র মন্দা সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র চার দিনে বাজার থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। মুম্বাইয়ের দালাল স্ট্রিটে ব্যাংকিং খাতের পতন, বিদেশি মূলধন প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক তেল দামের উচ্চতাই মূল কারণ হিসেবে দায়ী।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই সেনসেক্স) এক ধাক্কায় ১০০০ পয়েন্ট পড়ে গেছে, নিফটি ৫০ সূচক ২৯৫ পয়েন্ট নেমে গেছে
- 📌 গত শুক্রবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত বাজারমূল্য কমে ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি হয়েছে
- 📌 ব্যাংকিং খাতের শেয়ার বিশেষত এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই এবং অ্যাক্সিস ব্যাংকের শেয়ার পতনের প্রধান কারণ
- 📌 আন্তর্জাতিক তেল দামের উচ্চতা (ব্যারেলপ্রতি ১০৮-১০৯ ডলার) এবং হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে
- 📌 বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (এফপিআই) চলতি অক্টোবর মাসে ৫২ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রত্যাহার করেছে
📰 বিস্তারিত
ভারতের অর্থনীতিতে আস্থার সংকটের লক্ষণ হিসেবে শেয়ারবাজারে তীব্র মন্দা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৩০ মিনিটে দিনের লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক (বিএসই সেনসেক্স) ১০০০ পয়েন্ট নেমে গেছে। অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক (এনএসই নিফটি ৫০) ২৯৫ পয়েন্ট পড়ে গেছে। এর ফলে টানা দুই দিন ধরে বজায় থাকা ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এই ধাক্কা শুধু বড় মূলধনের শেয়ারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচকেও বড় পতন রেকর্ড করা হয়েছে।
গত শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় বিএসইভুক্ত সমস্ত কোম্পানির মোট বাজারমূল্য ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ৬২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আজ সোমবার বেলা আড়াইটা নাগাদ তা একলাফে কমে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকায়। ফলে চোখের পলকে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ভয়াবহ পতনের পেছনে তিনটি মূল কারণ সক্রিয় ছিল। প্রথমত, ব্যাংকিং খাতের বিপুল ধস। সম্প্রতি প্রকাশিত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শেয়ার থেকে ব্যাপক অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক এবং অ্যাক্সিস ব্যাংক—এই তিনটি প্রতিষ্ঠান মিলেই সেনসেক্সের মোট পতনের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রেখেছে। কেবল এইচডিএফসি ব্যাংকের শেয়ারের দামই ৩ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না করায় অ্যাক্সিস ব্যাংকের শেয়ার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে।
"আগামী দিনগুলোতে বাজারের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের গতিপথ, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহের ওপর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিনিয়োগকারীরা, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অভিনব ত্রিপাঠী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ লাখ কোটি টাকা (হারানো মূল্য), ১০০০ পয়েন্ট (বিএসই সেনসেক্সের পতন), ২৯৫ পয়েন্ট (নিফটি ৫০-এর পতন), ৫২ হাজার ১০০ কোটি টাকা (বিদেশি প্রত্যাহার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!