📌 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ঘোষণা করেছেন, কোম্পানিগুলো নিজে থেকে আইপিওতে না আসলে আইন প্রয়োগ করে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য করবেন। ঢাকার আইডিএলসি ক্যাপিটাল মার্কেট কনক্লেভে তিনি বলেছেন, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে আসার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান ঘোষণা করেছেন, কোম্পানিগুলো নিজে থেকে আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) না আসলে আইন প্রয়োগ করে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য করবেন। তিনি বলেছেন, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা উচিত। আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে আয়োজিত আইডিএলসি ক্যাপিটাল মার্কেট কনক্লেভে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান**: "আমার হাতে আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইনে বিএসইসিকে নির্দেশ দিতে পারার স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে না আসলে আমি আইন প্রয়োগ করতে পারি।"
- 📌 **ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বন্ধ**: বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণেই ব্যবসা বড় করা সম্ভব নয়। পুঁজিবাজারে আসা মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার পৃথক্করণের জন্য আবশ্যক।
- 📌 **ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লক্ষ্য**: বর্তমানে বাজারের আকার জিডিপির ৭.৪ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য। বর্তমান ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজার ২০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা।
- 📌 **বেসরকারি বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ**: খেলাপি ঋণের হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা কমছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, ফলে বিনিয়োগের পরিবেশ খারাপ।
- 📌 **মিউচুয়াল ফান্ডের অগ্রগতি**: সাধারণ সঞ্চয়কারীরা মিউচুয়াল ফান্ডে আস্থা রাখেন না। বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ডের রেকর্ড খুব ভালো নয়, ফলে সাধারণ মানুষ পুঁজিবাজারের জটিলতা বুঝতে পারেন না।
📰 বিস্তারিত
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘শেয়ারবাজারে আসার বিষয়টি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা উচিত। প্রথমে দেখা হবে, কারা আসছে আর কারা আসছে না। আমার হাতে অস্ত্র আছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আইনে বিএসইসিকে স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন চাইলে যেকোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে নির্দেশ দিতে পারে। আমি যেকোনো সময় চাইলে এই আইন প্রয়োগ করতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, কোম্পানিগুলো বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে পুঁজিবাজারে আসুক এবং এর সুফল ভোগ করুক। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। তাদের আহ্বান জানিয়েছি। যাকেই পাচ্ছি, তাকেই শেয়ারবাজারে আসতে বলেছি।’
ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করে ব্যবসা বড় করা বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আর সম্ভব নয় বলে মনে করেন মাসুদ খান। আন্তর্জাতিক বা স্থানীয়ভাবে ব্যবসা বড় করতে হলে এবং মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার পৃথক্করণের সুবিধার্থে পুঁজিবাজারে আসা আবশ্যক।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা ও মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানিসংকট ও ব্যাংকিং খাতের সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ফলে তাদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার সক্ষমতা কমেছে। তিনি আরও বলেন, সার্বিক এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট কাটিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক খাতের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের ওপর আস্থা ফেরানো জরুরি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমাদের বাজার মূলধন জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা তারও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এটা জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি। ফলে বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজসহ আমাদের বাজারের আকার বর্তমানের ৩০ বিলিয়ন ডলার (ইকুইটি) থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এটা অবশ্যই সম্ভব। তবে এর জন্য সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ, আস্থা ও বিশ্বাস প্রয়োজন।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বলেন, শুধু নিয়মকানুন পরিবর্তন করলেই মানুষ পুঁজিবাজারে হুড়মুড় করে চলে আসবে না। সেখানে মানুষের সমাগম হতে সময় ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। সারা বিশ্বে সাধারণ সঞ্চয়কারীরা মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর নির্ভর করে। দুর্ভাগ্যবশত, মিউচুয়াল ফান্ডে আমাদের আগের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। তাই যেসব সাধারণ সঞ্চয়কারী পুঁজিবাজারের জটিলতা বোঝেন না, তারা ইউনিট ফান্ড কেনেন। ফান্ড ম্যানেজার সেই টাকা বাড়ানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন।
"আমি যেকোনো সময় চাইলে এই আইন প্রয়োগ করতে পারি। আমরা চাই, কোম্পানিগুলো বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে পুঁজিবাজারে আসুক এবং এর সুফল ভোগ করুক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (গুলশান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসুদ খান (বিএসইসি চেয়ারম্যান), নাজনীন আহমেদ (সিপিডি নির্বাহী পরিচালক), মমিনুল ইসলাম (ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চেয়ারম্যান), কাজী মাহমুদ সাত্তার (আইডিএলসি ফাইন্যান্স চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭.৪%, ২০%, ৩০ বিলিয়ন ডলার, ২০০ বিলিয়ন ডলার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!