📌 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য। এতে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো শেয়ার ইস্যু ছাড়াই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি পেতে পারবে, তবে প্রথম ৩০ কার্যদিবসে অন্তত ১০% শেয়ার বিক্রির বাধ্যতা রয়েছে
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে যাতে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো শেয়ার ইস্যু ছাড়াই সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি পেতে পারবে। নতুন ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের ডাইরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে প্রথম ৩০ কার্যদিবসে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বাধ্যতা থাকবে। এই বিধিমালা ১৮ অক্টোবর কার্যকর হয়েছে এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক এমডি কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেছেন, এই উদ্যোগ পুঁজিবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ: সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো শেয়ার ইস্যু ছাড়াই সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি পেতে পারবে।
- 📌 ৩০ দিনে ১০% শেয়ার বিক্রির বাধ্যতা: প্রথম ৩০ কার্যদিবসে অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে।
- 📌 যোগ্যতার শর্তাবলী: কোম্পানির নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা বা বার্ষিক টার্নওভার ১ হাজার কোটি টাকা থাকতে হবে।
- 📌 ৫ বছরের ব্যবসা ও ইতিবাচক নগদ প্রবাহ: কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং সর্বশেষ অর্থবছরে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ থাকতে হবে।
- 📌 ৩০% শেয়ার ধরে রাখার বাধ্যতা: উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে।
- 📌 বিনিয়োগকারীদের সীমাবদ্ধতা: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোট বিক্রি হওয়া শেয়ারের ১ শতাংশের বেশি কিনতে পারবেন না।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে যাতে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি পেতে পারবে। এই বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি, সরকারের অন্তত ১০ শতাংশ মালিকানাধীন কোম্পানি এবং সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও, সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী অন্তত ৫০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ থাকা তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানিগুলোও যোগ্য হবে।
বিধিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য কোম্পানিকে অন্তত পাঁচ বছর ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে, আগের দুই অর্থবছরে মূল ব্যবসা থেকে মুনাফা থাকতে হবে এবং পুঞ্জীভূত লোকসান থাকা যাবে না। সর্বশেষ অর্থবছরে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ থাকতে হবে। এছাড়াও, কোম্পানিকে ঋণখেলাপি হতে পারবেন না এবং বিএসইসি নিবন্ধিত ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগযোগ্য মানের রেটিং নিতে হবে। আর্থিক বিবরণী আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান অনুযায়ী তৈরি এবং আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান অনুসারে নিরীক্ষিত হতে হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ারের দাম নির্ধারণে কোম্পানি মার্চেন্ট ব্যাংকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্দেশক মূল্য ঠিক করবে। প্রথম দিন শেয়ার বিক্রির সর্বনিম্ন দাম নির্দেশক মূল্যের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ কম রাখতে হবে। প্রথম লেনদেনের দিন প্রথম দুই ঘণ্টা বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার দরপ্রস্তাব দিতে পারবেন, কিন্তু এই সময়ে উদ্যোক্তা বা বিক্রির প্রস্তাবকেরা বিক্রির আদেশ দিতে পারবেন না। দুই ঘণ্টা শেষে বিক্রির আদেশ দেওয়া যাবে।
"সরাসরি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ ভালো। এর ফলে সরকারি কোম্পানি, যেমন জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা করপোরেশন, জ্বালানি খাতের ভালো কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কোম্পানি এখন বাজারে আসতে পারবে।"
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক এমডি কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেছেন, এই উদ্যোগ পুঁজিবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে শাকিল রিজভী বলেছেন, এই বিধিমালার বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে, বিশেষ করে নতুন কোম্পানির শেয়ারের দাম কী হবে, এটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কে এ এম মাজেদুর রহমান, শাকিল রিজভী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ কার্যদিবস, ১০ শতাংশ, ৫০০ কোটি টাকা, ১ হাজার কোটি টাকা, ৩০ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ১ শতাংশ, ১০০ টি, ১ হাজার টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!