📌 আন্তর্জাতিক কৈশোর স্বাস্থ্য সপ্তাহের উপলক্ষে পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএজিএসবি) ও প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিতকরণে সরকার, পেশাজীবী ও সমাজের একাত্মতা জোরালোভাবে দাবি করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন
বাংলাদেশের কৈশোরের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরের একাত্মতা জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কৈশোর স্বাস্থ্য সপ্তাহের (১২-১৯ অক্টোবর ২০২৬) উপলক্ষে ‘কিশোর-কিশোরীর স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠক আয়োজন করে পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট গাইনোকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিএজিএসবি) ও প্রথম আলো। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষ মনোযোগের দাবি তুলে ধরেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০-১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিতকরণে সরকার, পেশাজীবী ও সমাজের একাত্মতা জরুরি** — বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন।
- 📌 **বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০% (১৮% কিশোর-কিশোরী) — তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব** — বলেন অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, ওজিএসবি সভাপতি।
- 📌 **প্রজননস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সহিংসতা প্রতিরোধ — এই চারটি বিষয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ** — বৈঠকে আলোচিত হয়।
- 📌 **কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ওজিএসবি স্বতন্ত্র চিকিৎসা শাখা প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেছে** — শিশু ও কৈশোর গাইনোকোলজিকে স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে।
- 📌 **কিশোর-কিশোরীদের জন্য কর্নার থাকলেও সেগুলোতে যথাযথ পরিবেশ ও আসবাবের অভাব — নিয়মিত পরিবীক্ষণ দরকার** — বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
- 📌 **কিশোর-কিশোরীদের মাসিকসংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে দেশে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই — এ বিষয়ে গবেষণার দাবি করা হয়**।
📰 বিস্তারিত
গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কিশোর-কিশোরীরা (১০ থেকে ১৯ বছর বয়স) শৈশব ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের মধ্যবর্তী একটি পরিবর্তনকালে অবস্থান করেন। এই সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের স্বাস্থ্যসমস্যাও প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে আলাদা। তাই তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপক ডা. কোহিনূর বেগম, পিএজিএসবি সভাপতি বলেন, “এই বয়সে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, কিন্তু যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুরক্ষারও বড় সুযোগ রয়েছে।”
অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, ওজিএসবি সভাপতি বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (১৮%) কিশোর-কিশোরী। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার নির্ধারিত চারটি বিষয়—যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধ—বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ওজিএসবি বিভিন্নভাবে কাজ করছে। শিশু ও কৈশোর গাইনোকোলজিকে স্বতন্ত্র চিকিৎসা শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ চলছে, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যসমস্যায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া যায়। এছাড়া, কিশোর-কিশোরীদের জন্য কর্নার থাকলেও সেগুলোর যথাযথ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় আসবাবের অভাব রয়েছে। এসব কেন্দ্রের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিবীক্ষণ প্রয়োজন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা, পিএজিএসবি মহাসচিব বলেন, “কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসমতা নিশ্চিত করতে সরকার, পেশাজীবী, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না, বাস্তবায়নের সময়ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।”
"কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; স্কুল, সহপাঠী, অভিভাবক, বেসরকারি সংস্থা, সমাজকর্মীসহ সবারই রয়েছে।" — অধ্যাপক ডা. কোহিনূর বেগম, পিএজিএসবি সভাপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. কোহিনূর বেগম, অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা, ফারহান আহমেদ, ফিরোজ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১৯ বছর বয়স (কিশোর-কিশোরী), ১৮% (মোট জনসংখ্যার), ১২-১৯ অক্টোবর ২০২৬ (আন্তর্জাতিক কৈশোর স্বাস্থ্য সপ্তাহ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!