📌 ওয়ারপো ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মান পরীক্ষা করে উদ্বেগজনক তথ্য সাংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করেছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর পানির মান 'খারাপ' পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে শিল্প, বর্জ্য ও জনগণের অবহেলা চিহ্নিত করেছে ওয়ারপো
ওয়ারপো ঢাকার চারপাশের চারটি প্রধান নদীতে দূষণের চিত্র উদ্বেগজনক বলে সাংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মান পরীক্ষা করে সংস্থাটি শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ স্থানে 'খারাপ' পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির তৃতীয় বৈঠকে ওয়ারপোর উপস্থাপনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওয়ারপো ঢাকার চারপাশের চারটি নদীতে ৩৬টি স্থান থেকে পানির নমুনা পরীক্ষা করে 'ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স' তৈরি করেছে
- 📌 শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোর পানির মান 'খারাপ' পর্যায়ে পৌঁছেছে, বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি হলেও কোনো নদীর কোনো নমুনা 'চমৎকার' পর্যায়ে পৌঁছেনি
- 📌 বুড়িগঙ্গায় মাছের জন্য উপযোগী দ্রবীভূত অক্সিজেনের মান প্রতি লিটার ৫ মিলিগ্রামের অনেক নিচে নেমেছে
- 📌 ওয়ারপোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে শিল্প, বর্জ্য ও জনগণের অবহেলা চিহ্নিত করেছেন
- 📌 ওয়ারপো দাবি করেছে, দূষণের উৎস বন্ধ না করে নদীর পানির মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে আনা সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
ওয়ারপো ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির মান পরীক্ষা করে উদ্বেগজনক তথ্য সাংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করেছে। সংস্থাটি চার নদীর ৩৬টি স্থান থেকে চার মৌসুমে পানির নমুনা সংগ্রহ করে 'ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স' (ডব্লিউকিউআই) তৈরি করেছে। ওয়ারপোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সঙ্গে গত দুই বছর ধরে এই গবেষণা চলছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ স্থানে পানির মান 'খারাপ' পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্ষা মৌসুমে পানির মান কিছুটা উন্নতি হলেও কোনো নদীর কোনো নমুনা সংগ্রহস্থলের মান 'চমৎকার' পর্যায়ে পৌঁছেনি। ওয়ারপোর তথ্য অনুযায়ী, বুড়িগঙ্গার নয়টি নমুনা সংগ্রহস্থলে শুষ্ক মৌসুমের ডব্লিউকিউআই প্রায় ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যে রয়েছে। বর্ষা ও বর্ষার পর বেশিরভাগ স্থানে সূচকের উন্নতি হয়েছে; কয়েকটি স্থানে তা ৬০-এর ওপরে উঠেছে।
ওয়ারপোর তথ্য অনুযায়ী, বুড়িগঙ্গায় মাছের জন্য উপযোগী দ্রবীভূত অক্সিজেনের মান প্রতি লিটার সর্বোচ্চ ৫ মিলিগ্রামের অনেক নিচে নেমেছে। শুষ্ক মৌসুমে কয়েকটি স্থানে তা শূন্যের কাছাকাছি নেমেছে। অন্যদিকে, জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি) প্রতি লিটার ২০ থেকে ৩৫ মিলিগ্রামের মধ্যে দেখা গেছে, যা মাছের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মিলিগ্রামের অনেক বেশি।
"চারটা নদীর মোট ৩৬ পয়েন্টে আমরা কন্টিনিউয়াস ডেটা কালেকশন করছি। ১৬টা প্যারামিটার আমরা টেস্ট করছি। ১৬টা প্যারামিটার নিয়ে আমরা একটা ইনডেক্স বানিয়েছি, যেটাকে আমরা বলছি ওয়াটার কোয়ালিটি ইনডেক্স।"
ওয়ারপোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান দূষণের প্রধান উৎস হিসেবে শিল্প, বিভিন্ন সংস্থা, সাধারণ মানুষ ও হাটবাজার থেকে নদীতে ফেলা বর্জ্যকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "প্রচুর ময়লা আমরা ফেলছি। সেটা হয় শিল্প, না হয় বিভিন্ন সংস্থা, না হয় জনগণ, না হয় হাটবাজার। আমাকে উৎসগুলো বন্ধ করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "আমাকে যে কোনো মূল্যে পলিউশন সোর্স বন্ধ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান (ওয়ারপোর মহাপরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬টি নমুনা সংগ্রহস্থল, ১৬টি প্যারামিটার পরীক্ষা, ৩০-৪০ ডব্লিউকিউআই (শুষ্ক মৌসুম), ৬০+ ডব্লিউকিউআই (বর্ষা মৌসুম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!