📌 জার্মানির গবেষকরা ১২৩ প্রজাতির পাখির গান শুনিয়ে ৮৪ জনের থেকে নম্বর নিলেন। কমন ব্ল্যাকবার্ডের গান সবচেয়ে মিষ্টি লাগল, শিঁয়ালপ্যাঁচার ডাক সবচেয়ে কর্কশ। বিজ্ঞানীরা জানান, নরম সুর, কম্পাঙ্কের পরিসর এবং জটিলতা — এই তিনটি মিলে পাখির গান মানুষের কাছে মিষ্টি হয়
পাখির ডাক শুনলে কেউ মিষ্টি অনুভব করে, কেউ কর্কশ গলার আওয়াজে বুকের ভেতর ধক ধক করে। এই পার্থক্য কেন হয়? জার্মানির তুবিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। জীববিজ্ঞানী নাদিন কালবের নেতৃত্বে গবেষণা দল ১২৩ প্রজাতির পাখির গান শুনিয়ে ৮৪ জনের থেকে মিষ্টি-কর্কশের নম্বর নিলেন। ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রন্টিয়ার্স জার্নালে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **কমন ব্ল্যাকবার্ডের গান সবচেয়ে মিষ্টি** — গড় নম্বর ৪.৫২ পেয়েছে ইউরোপের এই পাখি
- 📌 **শিঁয়ালপ্যাঁচার ডাক সবচেয়ে কর্কশ** — নম্বর পেয়েছে মাত্র ১.৩২
- 📌 **নরম সুর, কম্পাঙ্কের পরিসর কম এবং জটিলতা** — এই তিনটি মিলে পাখির গান মানুষের কাছে মিষ্টি হয়
- 📌 **বিজ্ঞানীরা অবাক** — সরল সুরের চেয়ে জটিল গান বেশি পছন্দ করা হয়
- 📌 **গবেষণা বলছে** — শহর পরিকল্পনায় পাখির গানকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে
📰 বিস্তারিত
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদেরকে ১২৩ প্রজাতির পাখির ডাকের রেকর্ডিং শোনানো হলো। প্রতিটি গানের মিষ্টি-কর্কশতার মাপকাঠি হিসেবে ৫-পয়েন্ট স্কেলে নম্বর দেওয়া হলো। গবেষকরা দেখলেন, কমন ব্ল্যাকবার্ডের গান সবচেয়ে মিষ্টি লাগে — গড় নম্বর ৪.৫২ পেয়েছে এই ইউরোপীয় পাখি। অন্যদিকে শিঁয়ালপ্যাঁচার (বার্ন আউল) ডাক সবচেয়ে কর্কশ — মাত্র ১.৩২ নম্বর পেয়েছে। মাঝখানে অবস্থান করছে ইউরোপীয় গোল্ডফিঞ্চ (৪.২৬) এবং ইউরোপীয় রবিন (৪.০৪)।
গবেষকরা তিনটি প্রধান কারণ খুঁজে পেয়েছেন যা পাখির গানকে মানুষের কাছে মিষ্টি করে তোলে:
- **নরম আওয়াজ** — মানুষ সাধারণত নরম সুরের পক্ষেই পছন্দ করে
- **কম্পাঙ্কের পরিসর কম** — সুরের উঁচু-নিচু কম লাফালাফি করলে বেশি ভালো লাগে
- **জটিলতা** — অধ্যাপক ক্রিস্টফ র্যান্ডলারের আশা ছিল সরল সুর বেশি পছন্দ করা হবে, কিন্তু গবেষণা দেখায় জটিল গান বেশি মিষ্টি লাগে
নাদিন কালব বলেছেন, কোনো একক বৈশিষ্ট্য একা কিছু ঠিক করে দেয় না। ব্ল্যাকবার্ড, উইলো ওয়ার্ব্লার এবং ব্ল্যাকক্যাপের গান আলাদা হলেও সবাই তাদের গান বেশি মিষ্টি মনে করেছে। গবেষকরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও লক্ষ্য করেছেন — পাখি চেনা থাকলেও তা গানের মিষ্টি-কর্কশতার উপর প্রভাব ফেলে না। মানুষের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি এবং জৈবিক কারণও পছন্দকে প্রভাবিত করে। ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ওলগা ফেহের মনে করেন, পাখির গান নিয়ে মানুষের পছন্দের পেছনে কিছু জৈবিক কারণ থাকতে পারে।
গবেষক রবার্ট ল্যাকল্যান লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বলেছেন, এই গবেষণা নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তবে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কম পরিসরের সুর ভালো লাগে, তবে ব্ল্যাকবার্ড এবং নাইটিংগেলের মতো নিচু সুরের পাখির গান কেন সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হয়?
গবেষকরা বলছেন, শহর পরিকল্পনায় পাখির গানকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে — প্রকৃতিতে যে গান স্বাভাবিকভাবে হয়, সেটিই মানুষের মনকে আরাম দেয়। স্পিকার দিয়ে বাজানো কৃত্রিম গান কার্যকর নয়।
"পাখির গান নিয়ে মানুষের পছন্দের পেছনে কিছু জৈবিক কারণ আছে। আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের কথা ভাবলে, পাখির ডাক ছিল আশ্বাসের সুর।"
— ওলগা ফেহের, ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানি (তুবিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়), ব্রিটেন (ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়), লন্ডন (রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাদিন কালব (জীববিজ্ঞানী), অধ্যাপক ক্রিস্টফ র্যান্ডলার, ওলগা ফেহের, রবার্ট ল্যাকল্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ জন অংশগ্রহণকারী, ১২৩ প্রজাতির পাখি, ১ সেপ্টেম্বর (প্রকাশিত তারিখ), ৪.৫২ (কমন ব্ল্যাকবার্ডের গড় নম্বর), ১.৩২ (শিঁয়ালপ্যাঁচার গড় নম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!