📌 ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'দ্য স্টারি নাইট'-এর তারাগুলো আসলে বৃষ রাশির হায়াডিস তারাগুচ্ছ — এমন নতুন আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ১৮৮৯ সালের জুলাইয়ে আকাশে হায়াডিসের অবস্থান ছবির তারার বিন্যাসের সঙ্গে মিলে যায়
ভ্যান গগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘দ্য স্টারি নাইট’-এর তারাগুলো আসলে বৃষ রাশির হায়াডিস তারাগুচ্ছ — এমন নতুন আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার শিল্প-ইতিহাসবিদদের প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ১৮৮৯ সালের জুলাই মাসে আকাশে হায়াডিসের অবস্থান ছবির তারার বিন্যাসের সঙ্গে জোরালো মিল রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ‘দ্য স্টারি নাইট’-এর তারাগুলোকে বৃষ রাশির হায়াডিস তারাগুচ্ছ হিসেবে শনাক্ত করেছেন — আগের ধারণা ছিল মেষ রাশির তারাগুচ্ছ
- 📌 ১৮৮৯ সালের ২২ জুলাই আকাশে হায়াডিসের অবস্থান ছবির তারার বিন্যাসের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় — গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ সাময়িকীতে
- 📌 গবেষক এলিয়াহ জিয়ং-হিউন কিম ‘প্রোক্রাস্টিস’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে পাঁচটি তারার অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন — মিলের পরিসংখ্যানগত শক্তি সর্বোচ্চ
- 📌 ভ্যান গগের আরেকটি চিত্রকর্ম ‘স্টারি নাইট ওভার দ্য রোন’-েও তারার বিন্যাসের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়
- 📌 গবেষকরা মনে করেন, চিত্রকর্মটি একাধিক ধাপে আঁকা হতে পারে — জুন মাসের চাঁদের অবস্থান ছবির সঙ্গে মিলে না
- 📌 টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ ডন ওলসন নতুন সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো প্রমাণের দাবি করেছেন
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের স্থায়ী সংগ্রহে থাকা ‘দ্য স্টারি নাইট’ চিত্রকর্মের তারাগুলো আসলে বৃষ রাশির হায়াডিস তারাগুচ্ছ — এমন নতুন আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৮৮৯ সালের ২২ জুলাই আকাশে হায়াডিসের অবস্থান ছবির তারার বিন্যাসের সঙ্গে জোরালো মিল রয়েছে। এত দিন ধারণা করা হতো, ফ্রান্সের সাঁ-রেমি-দ্য-প্রোভঁসে অবস্থানকালে ১৮৮৯ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে ছবিটি এঁকেছিলেন ভ্যান গগ।
গবেষণার প্রধান লেখক এলিয়াহ জিয়ং-হিউন কিম বলেছেন, ছবির মাঝখানে থাকা তারাগুচ্ছটি তাঁর চোখে প্রথম থেকেই বৃষ রাশির হায়াডিস বলে মনে হয়েছিল। তবে আগের গবেষণাগুলোতে একে মেষ রাশির তারাগুচ্ছ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। গবেষকরা ‘প্রোক্রাস্টিস’ নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে পাঁচটি তারার অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন। এই পদ্ধতিতে ছবির পাঁচটি তারার সঙ্গে হায়াডিসের পাঁচটি তারার উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়। পরীক্ষিত বিকল্প নক্ষত্রমণ্ডলগুলোর মধ্যে এই মিলের পরিসংখ্যানগত শক্তিও ছিল সবচেয়ে বেশি।
গবেষণাপদ্ধতির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ভ্যান গগের আরেকটি চিত্রকর্ম ‘স্টারি নাইট ওভার দ্য রোন’-এ আঁকা সপ্তর্ষিমণ্ডলের তারার বিন্যাসও পরীক্ষা করা হয়। সেখানেও বাস্তব তারার সঙ্গে ছবির বিন্যাসের জোরালো মিল পাওয়া যায়। গবেষকরা ভ্যান গগের চিঠিপত্র এবং চাঁদের অবস্থানও বিশ্লেষণ করেছেন। ১৮৮৯ সালের ১৮ জুন লেখা এক চিঠিতে শিল্পী তারাভরা আকাশ নিয়ে নতুন একটি চিত্রকর্মের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে গবেষকদের মতে, সেই চিঠি থেকে ছবিটি ওই সময়েই সম্পূর্ণ হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তাঁদের ধারণা, একাধিক ধাপে ছবিটি আঁকা হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া জুনের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদের যে দশা ছিল, ছবিতে তার সঙ্গে মিল নেই। জুলাইয়ের শেষ দিকে চাঁদের ক্ষয়িষ্ণু বাঁকা রূপটি ছবির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০১৯ সালে ফ্রান্সের সাঁ-রেমি-দ্য-প্রোভঁস সফর করে গবেষক কিম ভ্যান গগের ছবি আঁকার স্থান থেকে আকাশের দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর মতে, সেই পর্যবেক্ষণও হায়াডিস শনাক্তকরণের পক্ষে যায়। তবে গবেষণাটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডন ওলসন। তাঁর বক্তব্য, হায়াডিসের সঙ্গে উজ্জ্বল শুক্রগ্রহের অবস্থান ছবির বিন্যাসের সঙ্গে মেলে না। তাই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আরও জোরালো প্রমাণ প্রয়োজন।
"দ্য স্টারি নাইট আমার মতো একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছে। আমি তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্সের সাঁ-রেমি-দ্য-প্রোভঁস (ভ্যান গগের ছবি আঁকার স্থান), নিউইয়র্ক (মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এলিয়াহ জিয়ং-হিউন কিম (গবেষক), ডন ওলসন (পদার্থবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ জুলাই ১৮৮৯, ১৮ জুন ১৮৮৯, পাঁচটি তারা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!