📌 জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা ইউনেপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৮% এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪৫% কার্বন নিঃসরণ কমালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা সম্ভব। তবে বর্তমান গতিতে ২০৬০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ২.৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (ইউনেপ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী চার বছরে (২০৩০ সালের মধ্যে) কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। এতে প্রাকশিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার সম্ভাবনা দেখা দেবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৮ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমালে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা সম্ভব
- 📌 ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কার্বন কমালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যেতে পারে
- 📌 ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে, তবে ২ ডিগ্রির সীমা অতিক্রমের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব
- 📌 ২০২৫ সালে কার্বন নিঃসরণ আগের বছরের কাছাকাছি ছিল, কিন্তু স্থিতিশীলতার লক্ষণ নয়
- 📌 ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণ ৫০ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য হতে পারে, যা ৩৫ গিগাটনের নিচে রাখা প্রয়োজন
- 📌 মিথেন নিঃসরণ কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ এটি কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় ৮০ গুণ বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী চার বছরে (২০৩০ সালের মধ্যে) কার্বন নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। এতে প্রাকশিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার সম্ভাবনা দেখা দেবে। তবে বর্তমান গতিতে ২০৬০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইউনেপের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ আগের বছরের কাছাকাছি ছিল। তবে এটিকে নিঃসরণের সর্বোচ্চ পর্যায় বা স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
ইউনেপের নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসন বলেছেন, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে বিশাল প্রচেষ্টা প্রয়োজন ছিল, বিশ্ব তা করেনি। দীর্ঘদিন ধরে সময় ফুরিয়ে আসার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে। তবে তিনি বলেছেন, লক্ষ্যটি পুরোপুরি পরিত্যাগ করার সময় এখনো আসেনি। বরং তাপমাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেই পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় দেশগুলোর হালনাগাদ প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর বর্তমানে প্রচলিত নীতিগুলো অব্যাহত থাকলে এই বৃদ্ধি ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জীবনযাত্রা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতির ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিঃসরণকারী দেশ। জলবায়ু বিশ্লেষণবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মতো বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদক দেশগুলোর রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেছেন, সৌর ও বায়ুশক্তির মতো প্রযুক্তি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত এগোচ্ছে। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় গতি দেখাতে পারছে না। পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের পরিচালক ইয়োহান রকস্ট্রম বলেছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণ বছরে প্রায় ৫০ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য হতে পারে। অথচ তা ৩৫ গিগাটনের নিচে থাকা প্রয়োজন।
মিথেন নিঃসরণ হ্রাসের কথা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন ইউনেপ। সংস্থাটির মতে, মিথেন স্বল্পমেয়াদে কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় প্রায় ৮০ গুণ বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের পাশাপাশি মিথেন নিয়ন্ত্রণেও জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
"১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে বিশাল প্রচেষ্টা প্রয়োজন ছিল, বিশ্ব তা করেনি। দীর্ঘদিন ধরে সময় ফুরিয়ে আসার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছে। তবে লক্ষ্যটি পুরোপুরি পরিত্যাগ করার সময় এখনো আসেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বৈশ্বিক (সারা বিশ্ব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইঙ্গার অ্যান্ডারসন (ইউনেপের নির্বাহী পরিচালক), বিল হেয়ার, মোহাম্মদ আদো, ইয়োহান রকস্ট্রম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮%, ৪৫%, ১.৭ ডিগ্রি, ২.৮ ডিগ্রি, ৫০ গিগাটন, ৩৫ গিগাটন, ৮০ গুণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!