📌 জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা আর সম্ভব নয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান গতিতে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সাময়িকভাবে এই সীমা অতিক্রম করে পরবর্তীতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাপমাত্রা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে
জাতিসংঘের সর্বশেষ জলবায়ু প্রতিবেদনে একটি চরম সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমছে না। জাতিসংঘের ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা আর সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অতিক্রমের পর পৃথিবীকে শীতল করার জন্য সাময়িকভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি স্বীকার করতে হবে।
- 📌 বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান নীতিমালা অনুসরণ করলে ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- 📌 ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ১৮ শতাংশ কমাতে হবে, কিন্তু বর্তমান প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কমার সম্ভাবনা মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধির পূর্বাভাস বেড়ে ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান নিশ্চিত নয় এবং তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিপদ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করেছেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমছে না। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্য অতিক্রমের পর পৃথিবীকে শীতল করার জন্য সাময়িকভাবে এই সীমা অতিক্রম করতে দেওয়া যেতে পারে। পরে শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাপমাত্রা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। সরাসরি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সংগ্রহের মতো প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় হারে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য যে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত ও প্রাকৃতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে, তা নিশ্চিত করা কঠিন। উষ্ণতা কমিয়ে আনা কি সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার ইমেরিটাস অধ্যাপক ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকার প্যানেলের সাবেক চেয়ারম্যান বব ওয়াটসন বলেছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা একবার বেড়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সীমা সাময়িকভাবে অতিক্রম করার অর্থ হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। যতটা সম্ভব এই বৃদ্ধি সীমিত রাখা এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা আবার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
"বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এই সীমা সাময়িকভাবে অতিক্রম করার অর্থ হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। যতটা সম্ভব এই বৃদ্ধি সীমিত রাখা এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা আবার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বৈশ্বিক (পৃথিবী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্তোনিও গুতেরেস (জাতিসংঘের মহাসচিব), বব ওয়াটসন (ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার ইমেরিটাস অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১.৫ ডিগ্রি, ২.৮ ডিগ্রি, ১৮ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ, ৬৯ শতাংশ, ৫০ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!