📌 বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী আক্রান্ত হলেও তাদের সমস্যা সম্পর্কে জানেন না। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত শনাক্তকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব বিষয় আলোচিত হয়
বাংলাদেশে থাইরয়েড রোগের আক্রমণ ব্যাপক — প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবন এই অসুখের সাথে জড়িত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী আক্রান্ত হলেও তাদের অধিকাংশই নিজেদের সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞ। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভায় এই বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৫ কোটি থাইরয়েড রোগী**: বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ নারী।
- 📌 **অজ্ঞতা ও উপেক্ষা**: আক্রান্ত নারীদের ৬০ শতাংশই জানেন না তাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে।
- 📌 **শিশুদের প্রভাব**: প্রতি দুই হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একটি থাইরয়েড সমস্যায় জন্মগ্রহণ করে।
- 📌 **ক্যানসার ঝুঁকি**: ২ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।
- 📌 **সচেতনতা ও চিকিৎসা**: বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন।
- 📌 **সম্মেলনের আলোচনা**: থাইরয়েড রোগের আধুনিক নির্ণয় পদ্ধতি, ক্যানসার অস্ত্রোপচার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতি ও চোখের রোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশেষজ্ঞরা থাইরয়েড রোগের আক্রমণ ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকার মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। থাইরয়েডসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানান তিনি।
সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বিটিএসের সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বিটিএসের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম ও ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিএসের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা।
দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে তিনটি অধিবেশনে থাইরয়েড রোগের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যানসারের অস্ত্রোপচার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েডের সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতি, থাইরয়েড-সম্পর্কিত চোখের রোগ এবং রোগী পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বক্তব্য দেন সোহরাওয়ার্দী ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জীনাত জাবীন, অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।
"থাইরয়েড রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়মতো রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও রোগ শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা জরুরি।"
— **অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী, বিটিএসের সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক
সম্মেলনের ফ্রি পেপার ও পোস্টার সেশনে ১২টি মৌখিক এবং ১০টি পোস্টার উপস্থাপনা করা হয়। এতে অনির্ণীত থাইরয়েড রোগ, থাইরয়েড অটোইমিউনিটি, রেডিওআয়োডিন চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জিনগত বিশ্লেষণ ও বিরল রোগের বিভিন্ন কেস নিয়ে আলোচনা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উপস্থাপকদের পুরস্কৃত করা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হোটেল সোনারগাঁও, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী, নূরুল ইসলাম মনি, ডা. হারুন আল রশীদ, ডা. এম এ করিম, ডা. এ কে আজাদ খান, ডা. নাসরীন সুলতানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ কোটি (থাইরয়েড রোগী), ৬০ শতাংশ (অজ্ঞ নারী), ২ শতাংশ (থাইরয়েড ক্যানসার), ১২টি (মৌখিক উপস্থাপনা), ১০টি (পোস্টার উপস্থাপনা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!