📌 চলতি বছর সুপার এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে ৫ লাখেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব (সিআইএল) জানিয়েছে, তাপজনিত মৃত্যু মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার
বৈশ্বিক উষ্ণতা ও তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙ্গার কারণে চলতি বছর সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৫ লাখেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। গতকাল বুধবার বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব (সিআইএল) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনোর কারণে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ লাখেরও বেশি মৃত্যু হতে পারে সুপার এল নিনোর কারণে, যার মধ্যে ৪ লাখ ৫১ হাজার তাপজনিত মৃত্যু অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 ৪৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে অত্যন্ত উষ্ণ দিনের সংখ্যা, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় বিপজ্জনক।
- 📌 ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চল নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জলবায়ু ও মানুষের ঝুঁকিপ্রবণতা বিবেচনা করা হয়েছে।
- 📌 সুপার এল নিনোকে ‘ভবিষ্যৎ থেকে আসা একটি পোস্টকার্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে।
- 📌 ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে।
- 📌 তাপমাত্রা ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছেছে গত মাসে, যা সুপার এল নিনোর লক্ষণ।
📰 বিস্তারিত
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের (সিআইএল) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫১ হাজার অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে। গবেষণার লেখকরা ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত মৃত্যুর হারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে এই পূর্বাভাসে পৌঁছেছেন। স্থানীয় জলবায়ু ও মানুষের ঝুঁকিপ্রবণতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষণাটির পদ্ধতি একটি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশ করা হবে।
সিআইএল-এর ‘অ্যাডাপটেশন ইনভেন্টরি’তে চরম তাপমাত্রার সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে মানিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা, সবচেয়ে উষ্ণ সময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এবং সিআইএল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেছেন, ‘এই প্রতিবেদন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে যে আগামী কয়েক মাসে জরুরি পদক্ষেপ কোথায় নেওয়া হলে হাজার হাজান মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।’
এল নিনো হলো এমন একটি জলবায়ু চক্র, যখন নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদেরা সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে এল নিনোকে ‘সুপার’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। চলমান এল নিনোর তাপমাত্রা গত মাসে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। কিছু পূর্বাভাস বলছে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
মাইকেল গ্রিনস্টোন: “এই প্রতিবেদন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে যে আগামী কয়েক মাসে জরুরি পদক্ষেপ কোথায় নেওয়া হলে হাজার হাজান মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বব্যাপী (২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাইকেল গ্রিনস্টোন (শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ লাখ ৪১ হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু, ৪৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়া উষ্ণ দিন, ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!