📌 ৬৪ বছর আগে র্যাচেল কারসনের 'নীরব বসন্ত' বইয়ে বর্ণিত পরিবেশের বিপদ আজও সুন্দরবনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনায় ৩৪টি মামলা দায়ের হলেও, পরীক্ষাগারের অভাব ও আইনি জটিলতার কারণে অপরাধীকে দণ্ডিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষের নমুনা পরীক্ষা ঢাকায় পাঠাতে হয়, ফলে মাছের বিষাক্ততা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না
৬৪ বছর আগে র্যাচেল কারসনের 'নীরব বসন্ত' বইয়ে বর্ণিত পরিবেশের বিপদ আজও সুন্দরবনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনায় ৩৪টি মামলা দায়ের হলেও, আইনের শাস্তি পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরীক্ষাগারের অভাব ও আইনি জটিলতা। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিষের নমুনা পরীক্ষা ঢাকায় পাঠাতে হয়, ফলে মাছের বিষাক্ততা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অভিযুক্তরা জামিনে বের হয়ে যায় এবং অপরাধের চক্র বন্ধ হয় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৪ বছর আগে র্যাচেল কারসনের 'নীরব বসন্ত' বইয়ে বর্ণিত পরিবেশের বিপদ আজও সুন্দরবনে বাস্তবায়িত হচ্ছে — পাখি গান বন্ধ, মাছের লাফালাফি থেমে গেছে বিষের কারণে
- 📌 গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনায় ৩৪টি মামলা হয়েছে, ৩৭ জন আসামি করা হয়েছে, কিন্তু গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ২৫ জন
- 📌 বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা আদালতে প্রমাণ করা যায় না, কারণ বন বিভাগের নিজস্ব পরীক্ষাগার নেই — নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হয়, ফলে বিষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না
- 📌 অভিযুক্তদের অধিকাংশই জামিনে বের হয়ে যায়, কারণ বিষের প্রমাণের অভাবে মামলা দমন হয়
- 📌 সুন্দরবনের প্রতিবেশে পানির সংকট ও বিষাক্ত মাছধরার কারণে বনজীবী মানুষ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা আহত
📰 বিস্তারিত
৬৪ বছর আগে র্যাচেল কারসনের 'নীরব বসন্ত' বইয়ে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, মানুষের লালসার ফলে সৃষ্ট বিষনির্ভর কৃষি ও মাছধরা প্রকৃতিকে ধ্বংস করবে। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনা তারই প্রমাণ। বিষের কারণে খালের ছোট-বড় মাছ, রেণু পোনা, সাপ-ব্যাঙ, পোকামাকড়—সবই মারা যায়। থেমে যায় নদীতে মাছের দাপাদাপি। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও নাগরিকেরা কি এই বিপদে সচেতন? প্রথম আলো ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ সালে 'বিষের বিপদে “রক্ষক” সুন্দরবন' শিরোনামে একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
১১ অক্টোবর মগবাজার, ঢাকায় প্রথম আলো আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় মতিউর রহমানসহ সরকারি বিভাগের কর্মকর্তা, গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপকূলে পানির সংকট ও সুন্দরবনের প্রতিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বিষ দিয়ে মাছ ধরার ফলে বনের প্রতিবেশ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে, তা নিয়ে বহু আক্ষেপ উঠেছিল।
বাংলাদেশে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের অপব্যবহার বন্ধে ২০১৮ সালের বালাইনাশক (পেস্টিসাইডস) আইন, ১৯৮৫ সালের বালাইনাশক রুলস (সংশোধিত ২০১০), ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইন রয়েছে। তবে, বিষ দিয়ে মাছ ধরার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না, কারণ বন বিভাগের নিজস্ব পরীক্ষাগার নেই। বিষের নমুনা পরীক্ষা ঢাকায় পাঠাতে হয়, ফলে বিষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
১২ অক্টোবর সুন্দরবনে গিয়ে বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা হয়। তিনি দেখালেন কোন খালগুলোতে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হয়। তিনি বলেন, 'আমাদের আইন আছে, অপরাধের জায়গাগুলো চিহ্নিত, বন বিভাগের অভিযানে অপরাধী ধরাও পড়ছে। কিন্তু সমাধান আটকে আছে খুবই অদ্ভুত অজুহাতে। বিষ দিয়ে যে মাছ ধরা হচ্ছে, তা আদালতে প্রমাণ করা যাচ্ছে না।'
"বিষ প্রয়োগে ধরা মাছ শনাক্তের জন্য কিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বছর দুয়েক আগে। তবে এখনো তেমন অগ্রগতি নেই।"
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'স্থানীয়ভাবে তারা চাইলেও ওপর থেকে সাড়া পেতে সময় লেগে যায় অনেক। বন বিভাগের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের অভিযোগের কথা আগেও শুনেছি, এবারও শুনলাম।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবন (বিশেষত চাঁদপাই রেঞ্জ ও খুলনা অঞ্চল), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: র্যাচেল কারসন, মতিউর রহমান, দীপন চন্দ্র দাস, ইমরান আহমেদ, সুন্দরবনের বনজীবী মানুষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ বছর (বই প্রকাশের বছর), ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ (প্রথম আলোর প্রতিবেদন), ১১ ও ১২ অক্টোবর ২০২৬ (আলোচনা সভা ও অভিযান), ৩৪টি মামলা, ৩৭ জন আসামি, ২৫ জন গ্রেপ্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!