📌 সুন্দরবনের সুন্দরী গাছে পরগাছার আক্রমণ বেড়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ২৫-৩০ শতাংশ গাছ আক্রান্ত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ ও বননির্ভর মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে
সুন্দরবনের প্রাণ সুন্দরী গাছে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে পরগাছার আক্রমণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ আক্রান্ত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও টপডাইং রোগের কারণে এই আক্রমণ বাড়ছে, যা সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও বননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ২৫-৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ পরগাছায় আক্রান্ত
- 📌 পরগাছা গাছের মূল কাণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছে, পুষ্টি শোষণ করে পাতা বিবর্ণ ও শুকিয়ে যাচ্ছে
- 📌 নদী-খাল ভরাট ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে সুন্দরী গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে
- 📌 জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেছেন, নদী-খাল ভরাটের কারণে আগামরা রোগ ও পরগাছার আক্রমণ বাড়ছে
- 📌 বন বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, গবেষণা চলছে
📰 বিস্তারিত
বাগেরহাটের সুন্দরবনে সুন্দরী গাছের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে পড়ছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে পরগাছার আক্রমণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ আক্রান্ত হয়েছে। শুরুতে শাখা-প্রশাখায় দেখা দিয়েছিল পরগাছা, কিন্তু এখন গাছের মূল কাণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ছে। পরগাছা গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও রস শোষণ করে নেওয়ায় আক্রান্ত গাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে গাছ দুর্বল হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বনজীবীরা জানান, সুন্দরী গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে নদী ও খালে পলি জমে ভরাট হওয়া অন্যতম কারণ। মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ততা বাড়ায় সুন্দরী গাছে পরগাছা ও ছত্রাকের আক্রমণ সহজ হচ্ছে। জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘নদী ও খাল ভরাট হওয়ার কারণে আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। এখন পরগাছার আক্রমণও বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।’
সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্র শচীন বলেন, ‘সুন্দরী গাছ হারিয়ে গেলে শুধু বনের ক্ষতি হবে না, পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য এবং লাখ লাখ মানুষের জীবন সম্পূর্ণ বিপন্ন হয়ে পড়বে।’ পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লবণাক্ততা বৃদ্ধির সরাসরি ফল হিসেবে সুন্দরী গাছে পরগাছার বিস্তার বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে সুন্দরবনের পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
"নদী ও খাল ভরাট হওয়ার কারণে আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। এখন পরগাছার আক্রমণও বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ, বাগেরহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রশিদ হাওলাদার (জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক), মো. শহিদুল ইসলাম (এসিএফ), শুভ্র শচীন (সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫-৩০ শতাংশ সুন্দরী গাছ পরগাছায় আক্রান্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!