📌 সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে গত ৩৪ বছরে সুন্দরী ও গেওয়ার বনভূমি ৫ হাজার হেক্টর কমে গেছে। একই সময়ে কাঁকড়াগাছের বিস্তার ৮ গুণ বেড়েছে। গবেষণা দলের নেতা এম মাহমুদুর রহমান বলেছেন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়াই মূল কারণ
সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বনভূমিতে সুন্দরী ও গেওয়ার গাছের প্রাধান্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গত ৩৪ বছরে এই অঞ্চলের প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর বনভূমি কাঁকড়াগাছের আগ্রাসনে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে কাঁকড়াগাছপ্রধান এলাকার আয়তন ৮ গুণ বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৪ হেক্টরে পৌঁছেছে। গবেষণা দলের নেতা বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) এম মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এই পরিবর্তন লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ঘটছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৪ বছরে সুন্দরী-গেওয়ার বনভূমি ৫ হাজার হেক্টর কমে গেছে — ১৯৮৮ সালে ১৭ হাজার হেক্টর থেকে ২০২২ সালে ১২ হাজার হেক্টরে নেমেছে
- 📌 কাঁকড়াগাছের বিস্তার ৮ গুণ বেড়েছে — ৬৬০ হেক্টর থেকে ৫ হাজার ৪৩৪ হেক্টরে পৌঁছেছে, ঘন কাঁকড়াগাছ এলাকা ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়াই মূল কারণ — গবেষণা দলের নেতা এম মাহমুদুর রহমানের দাবি
- 📌 ২৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকার উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে এই পরিবর্তন শনাক্ত — চাঁদপাই রেঞ্জের ৩০ ও ৩১ নম্বর কম্পার্টমেন্টে গবেষণা করা হয়েছে
- 📌 কাঁকড়াগাছের আগ্রাসন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলতে পারে — গবেষকদের মতে, কাঁকড়াগাছের একধরনের আগ্রাসী প্রকৃতি রয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা দলের একটি নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, সুন্দরবনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরী ও গেওয়ার গাছের বনভূমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৮ সালে সুন্দরী ও গেওয়ার গাছের প্রাধান্য ছিল প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর এলাকায়। কিন্তু ২০২২ সালে তা কমে প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে নেমেছে। অন্যদিকে, কাঁকড়াগাছের বিস্তার ৬৬০ হেক্টর থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৪৩৪ হেক্টরে পৌঁছেছে। গবেষণা দলের প্রধান এম মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এই পরিবর্তনটি মূলত লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ঘটছে।
গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে ১৯৮৮ ও ২০২২ সালের উপগ্রহচিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ল্যান্ডস্যাট উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা গাছের পাতায় আলোর প্রতিফলনের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে প্রধান গাছের ধরন শনাক্ত করেছেন। গবেষণা দলের সদস্যরা স্পারসোর পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির ড্রেসডেন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকদের নিয়ে গঠিত। গবেষণাটি ‘ডিটেকশন অব কাঁকড়া ট্রি এক্সপ্যানশন ইন দ্য নর্দান সুন্দরবনস’ শিরোনামে ৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, কাঁকড়াগাছের বিস্তার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে। তবে দক্ষিণাংশে সুন্দরী ও গেওয়ার গাছের প্রাধান্য তুলনামূলকভাবে অক্ষুণ্ন রয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, কাঁকড়াগাছের একধরনের আগ্রাসী প্রকৃতি রয়েছে এবং এটি অন্যান্য গাছের সাথে সহাবস্থান করতে পারে না। সুন্দরীর সঙ্গে গেওয়া পাশাপাশি থাকে, কিন্তু কাঁকড়াগাছের বৃদ্ধি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
"গবেষণাটির দুটি প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রথমত, দীর্ঘ সময়ের উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করে সুন্দরবনে কোন প্রজাতির গাছ কোথায় প্রাধান্য বিস্তার করছে, তা শনাক্ত করার একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ১৯৮৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চাঁদপাই রেঞ্জে প্রধান গাছগুলোর বিস্তারে কী পরিবর্তন হয়েছে, তা পরিমাপ করা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ (৩০ ও ৩১ নম্বর কম্পার্টমেন্ট), বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম মাহমুদুর রহমান (স্পারসো), গবেষণা দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ বছর, ২৭২ বর্গকিলোমিটার, ৫ হাজার হেক্টর, ৮ গুণ, ১৭ গুণ, ৬৬০ হেক্টর, ৫ হাজার ৪৩৪ হেক্টর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!