📌 সুন্দরবনে প্রতি ১০টি সুন্দরীগাছের মধ্যে ৪টি (৩৯%) আগামরা রোগে আক্রান্ত। ১২ কোটি ৯৫ লাখ গাছের মধ্যে ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মিঠাপানির কমে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়। গবেষণা করে জানা গেছে, সুন্দরবনের কার্বন শোষণ ক্ষমতা কমেছে ১৫%
সুন্দরবনের সুন্দরীগাছের দুর্দশা আরও গভীর হয়ে পড়েছে। গবেষণা থেকে জানা গেছে, প্রতি ১০টি সুন্দরীগাছের মধ্যে ৪টি (৩৯%) আগামরা বা টপ-ডাইং রোগে আক্রান্ত। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত সুন্দরীগাছের সংখ্যা ১২ কোটি ৯৫ লাখ। এর মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত গাছের সংখ্যা ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বায়ু, মাটি, পানি ও বৃক্ষসম্পদে এই রোগের প্রভাব পড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনে প্রতি ১০টি সুন্দরীগাছের মধ্যে ৪টি (৩৯%) আগামরা রোগে আক্রান্ত
- 📌 আক্রান্ত সুন্দরীগাছের সংখ্যা ১২ কোটি ৯৫ লাখ, এর মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার
- 📌 সুন্দরবনের কার্বন শোষণ ক্ষমতা কমেছে ১৫ শতাংশ
- 📌 লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে
- 📌 খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের এলাকায় রোগের সর্বোচ্চ প্রভাব
📰 বিস্তারিত
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বায়ু, মাটি, পানি ও বৃক্ষসম্পদ নিয়ে গবেষণা করে জানা গেছে, সুন্দরীগাছের দুর্দশার পেছনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া, পলিপতন, জোয়ার-ভাটার পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের ৩৩ কোটি সুন্দরীগাছের মধ্যে ২০ কোটি সুস্থ। গবেষণা পরিচালনা করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন।
গবেষণায় সুন্দরীগাছের আক্রান্ততার স্তর ভিত্তিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২৫ শতাংশের কম আক্রান্ত গাছের সংখ্যা ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার, ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ আক্রান্ত গাছের সংখ্যা ২ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার। গবেষকদের মতে, সুন্দরবনের আচ্ছাদন, কার্বন সঞ্চয় ক্ষমতা ও বন্যপ্রাণীর আবাস বদলে যেতে পারে।
গবেষণা পরিচালক ও সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক স্বপন সরকার বলেন, ১৯৮৬ সালের তুলনায় টপ-ডাইং রোগ কিছুটা কমলেও গুরুতর অসুস্থ গাছের সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, “১৯৮৬ সালে গুরুতর অসুস্থ গাছের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার। এখন তা ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছেছে। দীর্ঘ মেয়াদে এই প্রবণতাকে পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার।”
"১৯৮৬ সালের তুলনায় টপ-ডাইং রোগ কিছুটা কমলেও গুরুতর অসুস্থ গাছের সংখ্যা বেড়েছে। লবণাক্ততা বেশি এমন অঞ্চলে রোগ বেশি ছড়ালেও এটি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয় যে লবণাক্ততাই এককভাবে দায়ী।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবন (খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ)
- 👥 গবেষণা পরিচালক: অধ্যাপক স্বপন সরকার (সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯% আক্রান্ত সুন্দরীগাছ, ১২ কোটি ৯৫ লাখ আক্রান্ত গাছ, ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার মারাত্মক আক্রান্ত গাছ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!