📌 সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, ধোপাজান ও মরাচেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত। রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে বালু লুটকারীরা প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করছেন। স্থানীয়রা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করলেও শ্রমিকদের হামলা-মামলা চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ৩৭ জনের নামে মামলা করলেও বালু উত্তোলন থামেনি
সুনামগঞ্জের নদীগুলোতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে নদীর পাড় কেটে বালু লুটের কার্যক্রমে প্রকৃতি ও পরিবেশের ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও শ্রমিকদের হামলা-মামলা চলছে। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর মরাচেলা নদীর পাড় কাটা অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ৩৭ জনের নামে মামলা করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুনামগঞ্জের যাদুকাটা, ধোপাজান ও মরাচেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসের হুমকি বাড়ছে।
- 📌 ৪ অক্টোবর দোয়ারাবাজার উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পরও ৬ অক্টোবর মরাচেলা নদীর পাড় কাটা অবৈধ বালু উত্তোলন চালু হয়েছে।
- 📌 ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর ৯ দিনে মরাচেলা নদী থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে।
- 📌 আমির হামজা ও স্থানীয়রা বালু উত্তোলন রোধে পাহারা দিচ্ছেন, কিন্তু বালু লুটকারীরা তাদের হামলা করে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে।
- 📌 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে জেলার বালুমহালে লুটপাট শুরু হলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুটা শান্তি আসে, কিন্তু ইজারা স্থগিত থাকলেও বালু লুটের অবসান হয়নি।
- 📌 পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া বালু লুটের মতো অপকর্ম সম্ভব নয়।
- 📌 জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বীকার করেছেন, ইজারাবিহীন নদীতে বালু লুটের সমস্যা রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মরাচেলা নদীর কাজিরগাঁও এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই এলাকায় বালু উত্তোলনকারী চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে ছিদ্দিক মিয়া ও তার পরিবার। তারা বাইরের ২০-৩০ জনের সহায়তায় নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয় বালুশ্রমিক আসগর আলী জানান, ‘ছিদ্দিক মিয়া ও তার সহযোগীরা আমাদের জায়গা দখল করে নিচ্ছেন। বাধা দিলে তারা আমাদের মারধর করে হাসপাতালে পাঠায়।’
আমির হামজা ও তার পরিবার নদীতীরে পাহারা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এই গ্রামের ছিদ্দিক মিয়া ও তার সহযোগীরা আমাদের জায়গা দখল করে বালু উত্তোলন করছেন। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের মারধর করে।’ স্থানীয়রা বলছেন, বালু উত্তোলন বন্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের পরও লুটকারীরা আবার শুরু করেছে তাদের অপকর্ম।
পরিবেশ অধিদপ্তর ৬ অক্টোবর মরাচেলা নদীর পাড় কাটা অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য ৩৭ জনের নামে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ দিনে মরাচেলা নদী থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার ২৫ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের বালুমহালে বালু উত্তোলনের ইতিহাস রয়েছে। ২০১৮ সালে আদালত ধোপাজান কোয়ারি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবার শুরু হয় লুটপাট। প্রশাসনের তৎপরতায় কিছুটা বন্ধ হলেও, সরকারি সিদ্ধান্তে আবার শুরু হয় বালু উত্তোলন।
"নদীর পাড় কেটে বালু তোলায় ভূপ্রকৃতি পরিবর্তন ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া বালু লুটের মতো অপকর্ম সম্ভব না।" — পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুনামগঞ্জ জেলা (যাদুকাটা, ধোপাজান, মরাচেলা নদী), দোয়ারাবাজার উপজেলা, পূর্ব সোনাপুর গ্রাম
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আমির হামজা, ছিদ্দিক মিয়া, আসগর আলী, কাসমির রেজা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৭ জন (মামলায় অভিযুক্ত), ২৫ লাখ ঘনফুট (বালু উত্তোলন), ৫ কোটি টাকা (বালুর মূল্য), ২০-৩০ জন (বাইরের সহযোগী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!