📌 বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিছুটি গাছের বিষাক্ত রোমের সংস্পর্শে ত্বক থেকে জ্বর পর্যন্ত রোগের সৃষ্টি হয়। এই গাছের মূল ও পাতা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, জন্ডিস, ফোড়া এবং ত্বকের রোগে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে জল নীলাম্বরী নামের জলজ ফুলের বৈজ্ঞানিক গুণাবলী ও বংশবৃদ্ধি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
বাংলাদেশের বনাঞ্চলে জন্মে এমন একটি গাছ যার বিষাক্ত রোমের সংস্পর্শে ত্বকে চাকা চাকা দাগ, জ্বর ও কাঁপুনি সৃষ্টি হতে পারে। এই গাছের নাম বিছুটি বা চোতরাপাতা, যার ইংরেজি নাম ‘স্টিংগিং ট্রি’ বা ডেভিলস নেটল। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে এই গাছের বিষাক্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গেলে দেখা যায়, এর সংস্পর্শে এলে তীব্র চুলকানি এবং ত্বকে আঠালো অনুভূতি হয়। এই উপসর্গগুলো ১০ দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত বারবার দেখা দিতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিছুটি গাছের সংস্পর্শে ত্বকে চাকা চাকা দাগ, জ্বর ও কাঁপুনি সৃষ্টি হয়; লেবুর রস বা হলুদ লাগালে উপসর্গ কমে যায়
- 📌 গাছের পাতা ২০ সেন্টিমিটার লম্বা, ফুল ফোটে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে
- 📌 ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় ক্রান্তীয় বনাঞ্চলে বিছুটি গাছের প্রধান গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ
- 📌 দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, জন্ডিস, ফোড়া ও ত্বকের রোগে গাছের মূল ও পাতা ব্যবহৃত হয়
- 📌 উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বিছুটি গাছের রস ব্যবহার করে ম্যালেরিয়া, আমাশয় ও ঋতুস্রাবের সমস্যা নিরাময়ে
- 📌 জল নীলাম্বরী নামের জলজ ফুলের বীজ ছড়ানোর সময় সুপ্ত থাকে, ছয় থেকে আট সপ্তাহে অঙ্কুরিত হয়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছটি প্রথম চোখে পড়েছিল দীর্ঘ ছড়ার মতো ফুল দেখে। গাছের ওপরের পাতাগুলো দেখে প্রথমে ভুলে গেলাম কদমগাছের সাথে এর মিল। কিন্তু অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান জানান, এটি বিছুটি বা চোতরাপাতা। গাছটির বাকল সাদা ও মসৃণ, ছোট ডালপালাগুলো গোলাকার, সাদাটে এবং হুলযুক্ত রোমে আবৃত। এই রোমের সংস্পর্শে এলে ত্বকে তীব্র চুলকানি, চাকা চাকা দাগ, জ্বর ও কাঁপুনি সৃষ্টি হয়। এই উপসর্গগুলো ১০ দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত বারবার দেখা দিতে পারে। আক্রান্ত স্থানে লেবুর রস বা হলুদ লাগালে উপসর্গগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায়।
বিছুটি গাছের পাতা ২০ সেন্টিমিটার লম্বা হতে পারে। ফুল ফোটার সময় নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর। এই গাছ ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চলের প্রধান গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত বনাঞ্চলের ঝরনা বা জলধারার পাশে এবং বনের নিচের স্তরের গাছপালার ভেতর জন্মে। গাছটির মূলের রস দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া জন্ডিস নিরাময়ে গাছের মূল পানিতে ফুটিয়ে ক্বাথ তৈরি করে খাওয়া হয়। ফোড়া, ক্ষত, পোড়া স্থান এবং র্যাশ বা ত্বকের ফুসকুড়ি সারাতে এর মূল ও পাতা দিয়ে প্রলেপ তৈরি করে ব্যবহার করা হয়।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অধিকাংশ জাতিগোষ্ঠী দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ম্যালেরিয়া, আমাশয়, মূত্রনালির সমস্যা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, শরীরের কোনো অংশ ফুলে যাওয়া, ফোড়া এবং অতি সংবেদনশীলতাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় বিছুটিগাছের রস ব্যবহৃত হয়। গাছটির কাণ্ডের ছাল থেকে দড়ি তৈরির উপযোগী শক্তিশালী আঁশ পাওয়া যায়, যা দিয়ে মোটা কাপড়ও তৈরি করা হয়। আসামের উত্তর লখিমপুরে এ গাছের ফুল সবজি রান্নায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে বা সতেজ ভাব আনতেও এর বীজ চিবিয়ে খাওয়া হয়।
অন্যদিকে, জল নীলাম্বরী নামের জলজ ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Pontederia cordata। এই ফুলটি প্রথম গাজীপুরের ‘আরণ্যক’ বাগানবাড়িতে ২০১৩ সালে দেখা গিয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরের পুকুরে বেশ কটি দেখতে পেয়েছিলেন লেখক। এই উদ্ভিদ আংশিক প্লাবিত বা জলমগ্ন অবস্থায় জন্মে, তবে বিপাকীয় প্রক্রিয়া মাটির স্বল্প অক্সিজেন মাত্রায়ও টিকে থাকতে সক্ষম। প্রাকৃতিকভাবে পানির স্তর ওঠানামা করে যেমন বর্ষায় প্লাবন এবং শীতের দিকে পানির স্তর নেমে স্থলভাগ উন্মুক্ত হয়ে ওঠে, এমন এলাকায় এই জলজ ফুল স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে।
"বিছুটিগাছের মূলের রস দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া জন্ডিস নিরাময়ে গাছের মূল পানিতে ফুটিয়ে ক্বাথ তৈরি করে খাওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেন, গাজীপুরের ‘আরণ্যক’ বাগানবাড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান, মোকারম হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ সেন্টিমিটার (পাতার দৈর্ঘ্য), ৩০০-১০০০ মিটার (উচ্চতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!