📌 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইক ও নোটিফিকেশন কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গবেষণা দেখায়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৯৫% কিশোরই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ায়
১৩ বছর বয়সী এক কিশোর ফোনে নোটিফিকেশন দেখে হাসে। কিন্তু কয়েক মিনিট পর আবার ফোনে চোখ ফেলে যায়। এই প্যাটার্ন কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশে কতটা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে? বিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষক জে জিড ১৯৯১ সাল থেকে মস্তিষ্কের বিকাশ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থ সর্বোচ্চ পরিমাণে বয়ঃসন্ধির আগে পৌঁছায়। এরপর সিন্যাপটিক প্রুনিং প্রক্রিয়ায় তা কমতে শুরু করে। বিশেষত প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের বিকাশ শেষ হয় প্রায় মধ্য-বিশের বয়সে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা দেখায়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৯৫% কিশোর-কিশোরী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ প্রায় সবসময় প্ল্যাটফর্মে থাকে
- 📌 ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৬ হাজার ৫৯৫ জন কিশোরের গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে তিন ঘণ্টার বেশি মিডিয়া ব্যবহার করলে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ
- 📌 ফেসবুক চালু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ ৯ শতাংশ বেড়েছে
- 📌 সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক ও নোটিফিকেশন স্লট মেশিনের মতো পরিবর্তনশীল পুরস্কার পদ্ধতি তৈরি করে, যা কিশোরদের মস্তিষ্কের পুরস্কার-ব্যবস্থাকে টেনে রাখে
- 📌 কিশোর বয়সে মস্তিষ্কের পুরস্কার-সন্ধানী অংশ (লিম্বিক সিস্টেম) সক্রিয় থাকে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণকারী প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স বিকাশের শেষ পর্যায়ে থাকে
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা থেকে জানা যায়, মস্তিষ্কের ধূসর পদার্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বয়ঃসন্ধির আগের পর্যায়ে। এরপর সিন্যাপটিক প্রুনিং প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় স্নায়ু সংযোগগুলো ছাঁটাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে দেরিতে বিকশিত হয় প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে থাকে। গবেষক জে জিডের ১৯৯৯ সালের গবেষণায় ১৪৫ জন অংশগ্রহণকারীর ২৪৩টি এমআরআই স্ক্যান বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মনোবিজ্ঞানী লরেন্স স্টাইনবার্গ ২০০৮ সালে এই অবস্থাকে "ম্যাচুরিটি গ্যাপ" নামে অভিহিত করেন। কিশোর বয়সে মস্তিষ্কের পুরস্কার-সন্ধানী অংশ (লিম্বিক সিস্টেমের নিউক্লিয়াস অ্যাকুম্বেনস) নতুন উত্তেজনা ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রতি প্রবলভাবে টানে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণকারী প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স তখনো সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি। এই দুটি অংশের বিকাশের গতি পার্থক্যের কারণে কিশোররা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাৎক্ষণিক পুরস্কারের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক ও নোটিফিকেশন এই পুরস্কার-ব্যবস্থাকে স্লট মেশিনের মতো পরিবর্তনশীল করে তোলে, যা কিশোরদের মস্তিষ্ককে বারবার টেনে রাখে।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ৯৫% কোনো না কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নিজেই স্বীকার করে যে তারা প্রায় সবসময় এই প্ল্যাটফর্মে থাকে। ২০২১ সালের একটি জরিপে দেখা যায়, অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গড়ে দিনে সাড়ে তিন ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটায়।
"সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইক ও নোটিফিকেশন স্লট মেশিনের মতো পরিবর্তনশীল পুরস্কার পদ্ধতি তৈরি করে, যা কিশোরদের মস্তিষ্কের পুরস্কার-ব্যবস্থাকে টেনে রাখে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জে জিড (গবেষক), লরেন্স স্টাইনবার্গ (মনোবিজ্ঞানী), যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩-১৭ বছর বয়সী ৯৫% কিশোর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে; ৬ হাজার ৫৯৫ জন কিশোরের গবেষণা; ৯ শতাংশ বিষণ্নতার বেড়ে যাওয়া
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!