📌 সাপের ভ্রূণ বিকাশের সময় প্রায় সব সময়ই ডান দিকে কুণ্ডলী পাকায়। এবার কানাডার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, অন্ত্র ও কুসুমের অবস্থানের কারণে এমনটি ঘটে। গবেষণায় ৩৯ প্রজাতির সাপের ৯০০ ভ্রূণের ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে
সাপের ভ্রূণ বিকাশের সময় প্রায় সব সময়ই ডান দিকে কুণ্ডলী পাকাতে দেখা যায়। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এটি ছিল এক অমীমাংসিত রহস্য। অবশেষে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, সাপের ভ্রূণের অন্ত্র ও কুসুমের অবস্থানের কারণে এমন ঘটনা ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সাপের ভ্রূণ বিকাশের সময় প্রায় সব সময়ই ডান দিকে কুণ্ডলী পাকায়
- 📌 গবেষণায় অংশ নিয়েছেন আলেক্সান্দ্রা ওয়েবার ও তেতসুতো মিয়াশিতা
- 📌 বিশ্লেষণ করা হয়েছে ৩৯ প্রজাতির সাপের ৯০০টির বেশি ভ্রূণের ছবি
- 📌 অন্ত্রের গঠন ও কুসুমের অবস্থানের কারণে এমন ঘটনা ঘটে
📰 বিস্তারিত
সাপের ভ্রূণ বিকাশের সময় প্রায় সব সময়ই ডান দিকে কুণ্ডলী পাকাতে দেখা যায়। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এটি ছিল এক অমীমাংসিত রহস্য। অবশেষে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, সাপের ভ্রূণের অন্ত্র ও কুসুমের অবস্থানের কারণে এমন ঘটনা ঘটে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন প্রাণিবিজ্ঞানী আলেক্সান্দ্রা ওয়েবার এবং তাঁর সহযোগীরা। তাঁদের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে। গবেষকেরা ৩৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য পা বিহীন সরীসৃপের ৯০০টির বেশি ভ্রূণের ছবি পরীক্ষা করেছেন। তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, ভ্রূণ বিকাশের একেবারে শুরুর দিকেই ডান দিকে কুণ্ডলী পাকানো শুরু হয়। তবে তখনো এদের শরীরে পেশি তৈরি হয়নি। ফলে প্রশ্ন দেখা দেয়, পেশি না থাকলে ভ্রূণের শরীরকে ডান দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে কে?
সাপের ভ্রূণের সিটি স্ক্যান করার পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, ভ্রূণের শরীরের বাইরে একটি অন্ত্র থাকে। এটি কুসুম থেকে আসা রক্তনালির জাল দ্বারা ঘিরে থাকে। এই গঠনকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘অন্ত্রের স্তম্ভ’। এটি ধীরে ধীরে কুসুম থেকে আলাদা হতে থাকে এবং সাপের লম্বা হতে থাকা শরীরকে ধরে রাখে। কুসুম থাকে বাঁ পাশে, তাই কুণ্ডলী ডান দিকে তৈরি হয়।
গবেষক তেতসুতো মিয়াশিতা বিষয়টিকে একটি ফিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। একটি ফিতার দৈর্ঘ্য ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে এর কোনো একটি অংশ যখন আটকে থাকে, তখন বাড়তে থাকা অংশটি বাঁক নিয়ে কুণ্ডলী পাকাতে পারে। সাপের ভ্রূণের ক্ষেত্রেও অনেকটা এমনই ঘটে।
তবে গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভ্রূণ বড় হওয়ার সময় পেশি তৈরি হলে নড়াচড়ার ক্ষমতা তৈরি হয়। তখন এটি নিজের শরীর নাড়াতে পারে। এই পর্যায়ে গিয়ে প্রায় অর্ধেক ভ্রূণ আবার বাঁ দিকে কুণ্ডলী পাকাতে শুরু করে। অর্থাৎ বিকাশের একেবারে শুরুতে যে ডানমুখী কুণ্ডলী তৈরি হয়েছিল, পেশি তৈরি হওয়ার পর নিজের নড়াচড়ার কারণে সেটি বদলেও যেতে পারে।
"সাপের ভ্রূণের কুণ্ডলী পাকানোর পেছনে রয়েছে অন্ত্র ও কুসুমের অবস্থান। এটি একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কানাডা
- 👥 প্রধান গবেষক: আলেক্সান্দ্রা ওয়েবার
- 🔢 বিশ্লেষণকৃত ভ্রূণের সংখ্যা: ৯০০
- 🔢 বিশ্লেষণকৃত প্রজাতির সংখ্যা: ৩৯
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!