📌 সিঙ্গাপুরের গবেষকরা লুটেসিয়াম মৌল ব্যবহার করে বিশ্বের সর্বোচ্চ নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি করেছেন। এই ঘড়ি ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ২৬০ বিলিয়ন বছরের বেশি সময়ের ভুল করতে পারে। গবেষকরা দাবি, এটি বর্তমান সবচেয়ে নির্ভুল ঘড়ি এবং পদার্থবিজ্ঞানের অজানা রহস্য উন্মোচন করতে পারে
পদার্থবিজ্ঞানের নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছেন সিঙ্গাপুরের গবেষকরা। সেন্টার ফর কোয়ান্টাম টেকনোলজিসের গবেষক দল লুটেসিয়াম মৌল ব্যবহার করে বিশ্বের সর্বোচ্চ নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি করেছেন। এই ঘড়ির নির্ভুলতা অপরিসীম — ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ২৬০ বিলিয়ন বছরের বেশি সময়ের ভুল হতে পারে। এই আবিষ্কার সময় পরিমাপের পদ্ধতিতে বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে এবং পদার্থবিজ্ঞানের অনেক অজানা রহস্য উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিঙ্গাপুরের গবেষকরা লুটেসিয়াম মৌল ব্যবহার করে বিশ্বের সর্বোচ্চ নির্ভুল পারমাণবিক ঘড়ি তৈরি করেছেন, যা দশমিকের পর উনিশ ঘর পর্যন্ত সময় পরিমাপ করতে পারে
- 📌 এই ঘড়িতে ১ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ২৬০ বিলিয়ন বছরের বেশি সময়ের ভুল হতে পারে
- 📌 লুটেসিয়ামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে তাপমাত্রা বা চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন ঘড়ির নির্ভুলতায় কোনো প্রভাব ফেলে না
- 📌 গবেষক দলের সদস্য মাইকেল লি জানিয়েছেন, পরবর্তী লক্ষ্য হলো এই ঘড়িকে ছোট আকারে তৈরি করা যাতে সহজে বহনযোগ্য হয়
- 📌 এই ঘড়িগুলো মহাকর্ষের ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে এবং পদার্থবিজ্ঞানের জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করতে পারে
📰 বিস্তারিত
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের গবেষক মারে ব্যারেট জানান, নতুন এই ঘড়িটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভুল ঘড়ি। পারমাণবিক ঘড়ি পরমাণুর ইলেকট্রনের শক্তির স্তর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের গতি হিসাব করে। গত শতাব্দীর ষাট দশক থেকে সিজিয়াম পরমাণু বিশ্বব্যাপী সময়ের মান ঠিক করে আসছে এবং জিপিএস ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সচল রাখছে। তবে ইটারবিয়াম ও স্ট্রনশিয়ামের মতো অন্যান্য মৌল সিজিয়ামের তুলনায় অনেক দ্রুত অসিলেট করায় আরও বেশি নির্ভুলতা দিতে পারে।
সিঙ্গাপুরের গবেষক দলটি এক দশকের বেশি সময় ধরে লুটেসিয়াম মৌল নিয়ে গবেষণা চালিয়ে এই সফলতা অর্জন করেছে। লুটেসিয়াম ঘড়ির ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে অসাধারণ নির্ভুলতা পাওয়া গেছে। গবেষক মারে ব্যারেট জানান, এই ঘড়িটি পৃথিবীর উষ্ণতম স্থান ডেথ ভ্যালি বা অ্যান্টার্কটিকার শীতলতম এলাকাতেও ব্যবহার করা যাবে। ঘড়িটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ট্র্যাপড লুটেসিয়াম আয়ন ও লেজার রশ্মি।
গবেষক দলের সদস্য মাইকেল লি জানিয়েছেন, তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো এই ঘড়িটিকে ছোট আকারে তৈরি করা যাতে সহজে বহনযোগ্য হয়। এ ধরনের অতি নিখুঁত অপটিক্যাল ঘড়িগুলো মহাকর্ষের ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে ও পদার্থবিজ্ঞানের জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করতে পারে।
"এই ঘড়িটি পৃথিবীর উষ্ণতম স্থান ডেথ ভ্যালি বা অ্যান্টার্কটিকার শীতলতম এলাকাতেও ব্যবহার করা যাবে।" — গবেষক মারে ব্যারেট
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিঙ্গাপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মারে ব্যারেট, মাইকেল লি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬০ বিলিয়ন বছর (১ সেকেন্ডের ভুলের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!