📌 জাদু-সিহরের বাস্তবতা ও প্রতিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইসলামি পণ্ডিত মুফতি শাব্বীর আহমদ জানান, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে রুকইয়াহ, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই সঠিক পথ। জাদুকর বা তান্ত্রিকদের এড়িয়ে চলা এবং কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক অভিজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া উচিত
জাদু বা সিহরের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইসলামি পণ্ডিত মুফতি শাব্বীর আহমদ জানান, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জাদু-সিহরের প্রতিকার ও প্রতিরোধের পথ নির্দেশিত হয়েছে। গাজীপুরের সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, জাদু একটি বাস্তব বিষয় যা কোরআন ও হাদিসে প্রমাণিত। মানুষ জিনের মাধ্যমে বা অন্যান্য উপায়ে জাদুটোনা করে, যা সাধারণ চিকিৎসায় প্রতিক্রিয়া দেখায় না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসলামে জাদু বা সিহরের অস্তিত্ব কোরআন ও হাদিসে প্রমাণিত, যা পরকালের কথা ভুলে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের অন্যায় উপায় হিসেবে বিবেচিত
- 📌 জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির শরীরে স্বাভাবিক চিকিৎসায় প্রতিক্রিয়া না দেখলে সন্দেহ করা যেতে পারে
- 📌 ভণ্ড কবিরাজ বা তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়া হারাম, কারণ তারা শিরকি বিষয় ব্যবহার করে
- 📌 শরিয়াহ অনুযায়ী জাদু প্রতিরোধের উপায়: রুকইয়াহ (কোরআনিক চিকিৎসা), দোয়া ও জিকির, এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা
- 📌 রোগীকে সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারা, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান বা রোগীর ওপর ফুঁ দেওয়া
- 📌 আসরের বা মাগরিবের সময় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার পড়ে রোগীকে ফুঁ দেওয়া এবং ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ ও ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ পাঠ করা
- 📌 জাদুকর বা তান্ত্রিক সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা এবং কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক অভিজ্ঞ রুকইয়া চর্চাকারীর সহায়তা নেওয়া উচিত
- 📌 নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইমানকে মজবুত রাখা আবশ্যক
📰 বিস্তারিত
মুফতি শাব্বীর আহমদ বলেছেন, জাদু বা সিহর একটি বাস্তব বিষয় যা কোরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। মানুষ জিনের মাধ্যমে বা অন্যান্য উপায়ে জাদুটোনা করে, যা সাধারণ চিকিৎসায় প্রতিক্রিয়া দেখায় না। জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির শরীরে স্বাভাবিক চিকিৎসায় কোনো পরিবর্তন না দেখলে সন্দেহ করা যেতে পারে। তবে ভণ্ড কবিরাজ বা তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ হারাম, কারণ তারা শিরকি বিষয় ব্যবহার করে।
শরিয়াহ অনুযায়ী জাদু প্রতিরোধের উপায় হলো রুকইয়াহ (কোরআনিক চিকিৎসা)। সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারা, ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে পান করা বা রোগীর ওপর ফুঁ দেওয়া। এছাড়া আসরের বা মাগরিবের সময় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার পড়ে রোগীকে ফুঁ দেওয়া এবং ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ ও ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ পাঠ করা।
মুফতি শাব্বীর আহমদ বলেন, জাদুকর বা তান্ত্রিকদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা এবং কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক অভিজ্ঞ রুকইয়া চর্চাকারীর সহায়তা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিজের ইমানকে মজবুত রাখা জরুরি।
"জাদু সন্দেহ হলে নিজে নিজে পরীক্ষা না করে একজন কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক অভিজ্ঞ রুকইয়া চর্চাকারীর সহায়তা নেওয়া উচিত। অবিশ্বাস্য ঝাড়ফুঁক, তাবিজ বা তান্ত্রিক প্রতারকদের থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর উত্তর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুফতি শাব্বীর আহমদ (ইসলামবিষয়ক গবেষক), সাইফুল ইসলাম (প্রশ্নকারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ বার (সুরা পাঠের বার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!