📌 বাংলাদেশে প্রতি বছর রোটাভাইরাসে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু হয় ২.৫ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত। আইসিডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে সংক্রমণ বাড়ে এবং টিকা ছাড়া শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে থাকে। সরকারিভাবে টিকা দেওয়া না হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আর্থিক চাপে পড়ে
বাংলাদেশে শীতকালে শিশুদের মধ্যে রোটাভাইরাস সংক্রমণ একটি মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মধ্যবিত্ত মা জানান, তার এক বছরের ছেলেকে রোটাটেক টিকা দিতে ২ হাজার ৯৯৩ টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠে, নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো কীভাবে এই খরচ বহন করবে? আইসিডিডিআরবির ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে রোটাভাইরাসে মৃত্যু হয় ২.৫ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত। এছাড়াও, লক্ষাধিক শিশু আক্রান্ত হয় এবং পরিবারগুলো মাসিক আয়ের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে চিকিৎসায়। প্রতিটি সংক্রমণে গড়ে ১৬১ মার্কিন ডলার খরচ হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে প্রতি বছর রোটাভাইরাসে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যু হয় ২.৫ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত
- 📌 শীতকালে রোটাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ে; ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯৮৫ জনের মধ্যে ৬০ শতাংশ রোগী রোটাভাইরাসে আক্রান্ত
- 📌 রোটাভাইরাস টিকা ছাড়া শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির খরচ প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন ডলার
- 📌 সরকারিভাবে টিকা দেওয়া না হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো আর্থিক চাপে পড়ে
- 📌 বিশ্বের ১৩২টি দেশে রোটাভাইরাস টিকা চালু, কিন্তু বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা এখনো চালু করেনি
📰 বিস্তারিত
একজন মধ্যবিত্ত মা বলেন, তার এক বছরের ছেলেকে রোটাটেক টিকা দিতে ২ হাজার ৯৯৩ টাকা খরচ হয়েছিল। তিনি জানান, বেসরকারি হাসপাতালে টিকা দেওয়ার সময় সার্ভিস চার্জ এবং ডোজের সংখ্যাও খরচ বাড়ায়। তিনি প্রশ্ন করেন, নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো কীভাবে এই টিকা দিতে পারবে? আইসিডিডিআরবির ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে রোটাভাইরাসে মৃত্যু হয় ২.৫ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত। এছাড়াও, লক্ষাধিক শিশু আক্রান্ত হয় এবং পরিবারগুলো মাসিক আয়ের ১০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে চিকিৎসায়। প্রতিটি সংক্রমণে গড়ে ১৬১ মার্কিন ডলার খরচ হয়।
আইসিডিডিআরবির ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হাসপাতালভিত্তিক রোটাভাইরাস ও ইন্টুসাসেপশন নজরদারি (এইচবিআরআইএস) প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীতকালে সংক্রমণ বাড়ে। ২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯৮৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ১৮ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ১১ হাজার ৪২২ জনের (৬০ শতাংশ) রোটাভাইরাস ধরা পড়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ ন ম তানভীর চৌধুরী বলেন, রংপুরে ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা শিশুদের একটি বড় অংশ রোটাভাইরাসে আক্রান্ত থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত রোটাভাইরাস টিকা শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা থেকে সুরক্ষা দেয়। অক্সফোর্ড পপুলেশন হেলথ ডিপার্টমেন্টের ফার্মাকোলজিস্ট সিনায়াত মাহজাবিন বলেন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বলছে, এই টিকা অনেক শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে এটি এখনো যুক্ত হয়নি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ গাভির অনুমোদন পেয়েছিল, ২০২০ সালে পরিকল্পনা হালনাগাদ করে এবং ২০২২ সালে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিল। তবু টিকা চালু হয়নি।
"টিকা চালুতে আনুমানিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার লাগবে। বাজেট ও ব্যয়ের সুবিধা বিশ্লেষণই বিলম্বের প্রধান কারণ"
১৪ আগস্ট আইসিডিডিআরবি ঢাকায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনার আয়োজন করে। ইউনিসেফের চিকিৎসক মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, টিকা কর্মসূচি চালুতে আনুমানিক ৩৪ মিলিয়ন ডলার লাগবে। বাংলাদেশে চারটি ডব্লিউএইচও প্রিকোয়ালিফায়েড টিকা পরীক্ষা হয়েছে। আলোচনায় অর্থায়ন, নীতিগত অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা উঠে আসে। তবে, সব শিশুর জন্য টিকা কবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, রংপুর, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মা, আ ন ম তানভীর চৌধুরী, মো. রিয়াদ মাহমুদ, সিনায়াত মাহজাবিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৫-৩ হাজার (মৃত্যু), ১০ শতাংশ (আয়ের), ১৬১ মার্কিন ডলার (খরচ), ১০ মিলিয়ন ডলার (হাসপাতাল খরচ), ৬০ শতাংশ (রোগী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!