📌 অস্ত্রোপচারের পর বমি হওয়ার প্রধান কারণ হলো অপারেশন থিয়েটারের শব্দ। চীনা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, রোগীদের কানে হেডফোন পরিয়ে দিলে বমি ভাব ৩৫ শতাংশে কমে যায়
অস্ত্রোপচারের পর বমি হওয়া রোগীদের জন্য একটি সহজ সমাধান আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা থেকে জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটারের শব্দই বমির মূল কারণ। চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটির গবেষক হুয়াইউ লিউ ও তাঁর দলের গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীদের কানে হেডফোন পরিয়ে দিলে বমি ভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অপারেশন থিয়েটারের শব্দ (৬৬ ডেসিবেল) বমির মূল কারণ, যা মস্তিষ্কের স্বয়ংক্রিয় নার্ভাস সিস্টেমকে প্রভাবিত করে
- 📌 ১৯২ জন নারী রোগীতে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, হেডফোন পরানো রোগীদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ বমি ভোগে, অন্যদের মধ্যে ৫২ শতাংশ
- 📌 অস্ত্রোপচারের পর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বমি ভাবের পরিমাণ পরিমাপ করা হয়
- 📌 অপারেশন থিয়েটার শব্দের মাত্রা ৬৬ ডেসিবেল — যা সাধারণ আলোচনার শব্দের সমান
📰 বিস্তারিত
অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার মুহূর্তে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘পোস্ট-অপারেটিভ নসিয়া অ্যান্ড ভমিটিং’ নামে পরিচিত। অনেক সময় ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটির গবেষক হুয়াইউ লিউ ও তাঁর দল একটি সহজ সমাধান আবিষ্কার করেছেন।
গবেষণায় দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারের শব্দই বমির মূল কারণ। অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া সত্ত্বেও রোগীর মস্তিষ্ক শব্দ প্রসেস করতে থাকে। অপারেশন থিয়েটারের শব্দের মাত্রা প্রায় ৬৬ ডেসিবেল, যা সাধারণ আলোচনার শব্দের সমান। এই শব্দগুলো মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেমের বমি নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে প্রভাবিত করে, ফলে বমি শুরু হয়।
গবেষণায় ১৯২ জন নারী রোগীকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। এক দলকে অস্ত্রোপচারের সময় হেডফোন পরিয়ে রাখা হয়, অন্যদলকে না। পরীক্ষার ফলাফল দেখায়, হেডফোন পরানো রোগীদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ বমি ভোগে, অন্যদলে ৫২ শতাংশ। গবেষকরা আশা করেন, ভবিষ্যতে হাসপাতালগুলো রোগীদের অপারেশন আগে হেডফোন দেওয়া শুরু করতে পারে।
"অপারেশন থিয়েটারের শব্দই বমির মূল কারণ। এই শব্দগুলো মস্তিষ্কের স্বয়ংক্রিয় নার্ভাস সিস্টেমকে প্রভাবিত করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটি, সান দিয়েগো (অ্যানেসথেসিওলজি কনফারেন্স)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুয়াইউ লিউ (গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯২ জন রোগী, ৬৬ ডেসিবেল শব্দ, ৩৫% বমি ভোগে (হেডফোন পরানো), ৫২% বমি ভোগে (হেডফোন না পরানো)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!