📌 জার্মানির টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরেশীয় ব্ল্যাকবার্ডের গান সবচেয়ে মধুর (৪.৫২ নম্বর) এবং লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক সবচেয়ে কর্কশ (১.৩২ নম্বর)। মানুষ জটিল গান বেশি পছন্দ করে, সহজ পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দের চেয়ে। গবেষণায় ৮৪ জন অংশগ্রহণকারী ১২৩ প্রজাতির পাখির গান শুনে মূল্যায়ন করেছেন
জার্মানির টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, পাখির গান মানুষের কাছে কতটা মধুর বা কর্কশ লাগে তা নির্ভর করে এর শব্দগত বৈশিষ্ট্য ও জটিলতায়। গবেষণায় ৮৪ জন অংশগ্রহণকারী ১২৩ প্রজাতির বুনো পাখির গান শুনে মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মধ্যে ইউরেশীয় ব্ল্যাকবার্ডের গান সর্বোচ্চ মধুরতার স্কোর পেয়েছে (৪.৫২) এবং লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক সর্বনিম্ন (১.৩২)। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর ‘ফ্রন্টিয়ার্স’ সাময়িকীতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **ইউরেশীয় ব্ল্যাকবার্ডের গান সবচেয়ে মধুর** (গড় স্কোর: ৪.৫২/৫) — সুরসমৃদ্ধ, কোমল ও বাঁশির মতো সুরেলা
- 📌 **লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক সবচেয়ে কর্কশ** (গড় স্কোর: ১.৩২/৫) — তীক্ষ্ণ ও ভৌতিক চিৎকারের মতো
- 📌 **জটিল গান বেশি পছন্দ** — মানুষ সহজ পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দের চেয়ে জটিল গান বেশি আনন্দদায়ক মনে করেছেন
- 📌 **ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যামপ্লিটিউড ও ব্যান্ডউইডথের সমন্বয়** নির্ধারণ করে পাখির গানের মাধুর্য
- 📌 **গবেষণা নিবন্ধের প্রধান লেখক নাদিন কালব** বলেছেন, কোনো একক বৈশিষ্ট্য দিয়েই মাধুর্য ব্যাখ্যা করা যায় না
📰 বিস্তারিত
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৮৪ জনকে ১২৩ প্রজাতির বুনো পাখির রেকর্ড করা গান শোনানো হয়। প্রতিটি গানের মধুরতা ৫-পয়েন্ট স্কেলে মূল্যায়ন করা হয়। ইউরোপের বাগান, পার্ক ও বনভূমিতে বেশি দেখা যায় ইউরেশীয় ব্ল্যাকবার্ডের গান, যা সুরসমৃদ্ধ ও কোমল। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপ্যাঁচার ডাক তীক্ষ্ণ ও কর্কশ, যা মানুষের কাছে কম আনন্দদায়ক মনে হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মানুষ সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক শব্দের চেয়ে তুলনামূলক জটিল গান বেশি পছন্দ করেছে।
গবেষণা নিবন্ধের জ্যেষ্ঠ লেখক ও টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টফ র্যান্ডলার বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে সহজ শব্দই বেশি ভালো লাগবে, কিন্তু গবেষণায় উল্টো ফল পাওয়া গেছে। জটিল গানগুলো মানুষের কাছে বেশি আনন্দদায়ক হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, কোনো পাখির গানের মাধুর্য নির্ভর করে ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যামপ্লিটিউড ও ব্যান্ডউইডথের সমন্বয়ের ওপর।
গবেষকরা বলেছেন, এই ফলাফল পাখিরা কীভাবে আমাদের পরিবেশকে প্রভাবিত করে, সে বিষয়ে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। ভবিষ্যতে এটি পার্ক, শহুরে সবুজ এলাকা এবং মানুষ স্বস্তি পেতে যায় এমন অন্যান্য স্থান নকশার ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইউরোপীয় গোল্ডফিঞ্চ (৪.২৬), ইউরোপীয় রবিন (৪.০৪) ও ব্লু টিট (৩.৯২)ও উল্লেখযোগ্য স্কোর পেয়েছে।
"পাখির গান উপভোগ করার বিষয়টি শুধু মানুষ কী শুনছে, তা জানার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে আরও মৌলিক কিছু বিষয় জড়িত থাকে।"
"একটি পাখির শব্দ মানুষের কাছে কতটা ভালো লাগবে, তা নির্ভর করে ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যামপ্লিটিউড ও ব্যান্ডউইডথের সমন্বয়ের ওপর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানির টুবিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাদিন কালব (লেখক), ক্রিস্টফ র্যান্ডলার (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৪ জন অংশগ্রহণকারী, ১২৩ প্রজাতির পাখি, ৪.৫২ (ব্ল্যাকবার্ডের স্কোর), ১.৩২ (লক্ষ্মীপ্যাঁচার স্কোর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!