📌 ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, রেড-বিল্ড অক্সপেকার পাখি গন্ডারের শরীর থেকে পরজীবী খেয়ে নেয় এবং বিপদে সতর্ক করে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই সম্পর্ককে ‘মিউচুয়ালিজম’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি গেম রিজার্ভে তোলা একটি আলোকচিত্র ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার ১০০টি নির্বাচিত ছবির মধ্যে অন্যতম। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি রেড-বিল্ড অক্সপেকার পাখি গন্ডারের মুখের কাছে বসে তার ঠোঁট গন্ডারের চামড়ায় ঘষছে। আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টার এই মুহূর্তটি ধরে রেখেছেন ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ নামে। ছবিটি তোলা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানিয়েলেতি গেম রিজার্ভে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১০০টি ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা গেছে, রেড-বিল্ড অক্সপেকার পাখি গন্ডারের শরীর থেকে পরজীবী খেয়ে নেয় এবং বিপদে সতর্কবার্তা দেয়।
- 📌 গন্ডারের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো না থাকায় পাখিটি তার পিঠে বসে আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে এবং বিপদ দেখলে ডাক দিয়ে সতর্ক করে দিতে পারে।
- 📌 সোয়াহিলি ভাষায় পাখিটির নাম ‘আসকারি ওয়া কিফারু’ যার অর্থ ‘গন্ডারের রক্ষী’।
- 📌 বিজ্ঞানীরা এই সম্পর্ককে ‘মিউচুয়ালিজম’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন — যেখানে উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।
- 📌 ১৬ অক্টোবর থেকে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে এই ১০০টি নির্বাচিত ছবি প্রদর্শিত হবে।
📰 বিস্তারিত
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, রেড-বিল্ড অক্সপেকার শুধু গন্ডার নয়, জিরাফ, জেব্রা ও হরিণের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণীদেরও শরীরে বসে খাবার খোঁজে। এসব প্রাণীর শরীরে থাকা মাছি, উকুন, টিকসহ বিভিন্ন পরজীবী পাখির খাবারের অন্যতম উৎস। ফলে বড় প্রাণীর শরীর হয়ে ওঠে পাখিটির খাবার খোঁজার সুবিধাজনক জায়গা। অক্সপেকার এসব প্রাণীর শরীর থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এতে পাখিটির খাবারের জোগান হয়, আর প্রাণীরাও শরীরের কিছু পরজীবী কমার সুযোগ পায়।
গন্ডারের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো নয়। অন্যদিকে অক্সপেকার গন্ডারের পিঠে বসে আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। সম্ভাব্য বিপদ এগিয়ে এলে পাখিটি অস্থির হয়ে ওঠে এবং ডাক দিয়ে সতর্ক করতে পারে। ফলে প্রাণীটিও আশপাশের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার সুযোগ পায়। এই কারণেই অক্সপেকারকে অনেক সময় গন্ডারসহ বিভিন্ন বড় তৃণভোজী প্রাণীর ‘রক্ষী’ বা ‘প্রহরী’ বলা হয়।
‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ ছবিটি তোলার সময় আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টার গন্ডারের শরীরে থাকা অক্সপেকারকে তার ঠোঁট পরিষ্কার করতে দেখেছিলেন। সেই মুহূর্তই ক্যামেরায় ধরে রাখেন তিনি। ছবিতে গন্ডারের চোখের চারপাশে নীলচে একটি বলয়ও দেখা যায়, যা আলোকচিত্রীকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
"এই সম্পর্কের কারণেই আমি ছবির নাম দিয়েছি ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’—পারস্পরিক বন্ধু।"
জীববিজ্ঞানের ভাষায়, দুই ভিন্ন প্রজাতির এমন সম্পর্কে উভয় পক্ষ উপকৃত হলে তাকে ‘মিউচুয়ালিজম’ বলা হয়। একজনের জন্য এটি খাবারের সন্ধান, অন্যজনের জন্য পরজীবীর চাপ কমার সুযোগ। আবার বিপদের মুহূর্তে সেই ছোট পাখিই হয়ে উঠতে পারে সতর্কবার্তার উৎস।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ আফ্রিকার মানিয়েলেতি গেম রিজার্ভ, লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আর্নেস্ট পোর্টার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২তম প্রতিযোগিতা, ১০০টি নির্বাচিত ছবি, ১৬ অক্টোবর প্রদর্শনী, ১৩ অক্টোবর বিজয়ী ঘোষণা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!