📌 মৌলভীবাজার শহরতলির বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যালয়ে অবস্থিত বিরল সিন্দুরগাছে গোলাপি-সাদা ফুল ফোটে এবং লালচে ফল ধরে। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Bixa orellana, যা দইকে রাঙাতে ব্যবহৃত হয়
মৌলভীবাজার শহরতলির বর্ষিজোড়া ইকোপার্কের পাশে অবস্থিত বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কার্যালয়ে একটি বিরল সিন্দুরগাছে গোলাপি-সাদা রঙের ফুল ফোটে এবং লালচে ফল ধরে। গাছের ডালে ডালে ফুল ফোটে এবং ফলগুলো দেখতে বেশ মজার — নরম কাঁটায় ভরা লালচে বাদামি রঙের ফলগুলো দূর থেকে লোমশ মনে হয়। এই দৃশ্য ১৫ অক্টোবর সকালে দেখা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৌলভীবাজার শহরতলির বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যালয়ে অবস্থিত সিন্দুরগাছে গোলাপি-সাদা ফুল ফোটে এবং লালচে ফল ধরে।
- 📌 গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Bixa orellana, যা 'লিপস্টিক ট্রি' নামেও পরিচিত।
- 📌 গাছটির ফল থেকে প্রাপ্ত রঞ্জক দই, পনির ও অন্যান্য খাদ্যে রং দিতে ব্যবহৃত হয়।
- 📌 গাছটি প্রায় ১০-১২ বছর ধরে কার্যালয়ে রক্ষিত। প্রতিবছরই ফুল-ফল আসে বলে জানান কর্মকর্তারা।
- 📌 গাছটির বীজ থেকে প্রাকৃতিক রং পাওয়া যায়, যা কৃত্রিম রাসায়নিক রঙের নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
📰 বিস্তারিত
গাছটির গোড়ায় একটি নেমপ্লেট সাঁটানো আছে, যেখানে লেখা রয়েছে ‘বিরল প্রজাতি: সিন্দুর/লটকা গাছ’। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Bixa orellana। গাছটি আমেরিকা অঞ্চলের ছোট গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, যা সপ্তদশ শতাব্দীতে স্প্যানিশদের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
গাছটির বিভিন্ন নাম রয়েছে — দইগোটা, লটকনগোটা, রংগোটা, সিঁদুরি বা সিন্দুরে ফুল, জাফরান ফুল। ইংরেজিতে এটি ‘লিপস্টিক ট্রি’ নামে পরিচিত। তবে এটি জাফরান নয়, বরং এর ফল থেকে প্রাপ্ত রঞ্জক দইকে রাঙাতে ব্যবহৃত হয় বলে এর নাম দইগোটা। গাছটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর বীজ থেকে প্রাকৃতিক রং পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন খাদ্য পণ্যে রং দিতে ব্যবহৃত হয়।
বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার জানান, গাছটি প্রায় ১০-১২ বছর ধরে কার্যালয়ে রক্ষিত। তিনি বলেন, ‘এটি সিঁদুরগাছ। ফ্রুট কালার হিসেবে দইয়ে ব্যবহার করা হয়, এ জন্য এটিকে দইগোটা বলে। প্রতিবছরই ফুল-ফল আসে।’
"এটি একটি বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর বীজ থেকে লালচে কমলা রঙের প্রাকৃতিক খাদ্য রং পাওয়া যায়। বাণিজ্যিক খাদ্যশিল্পে এটি কৃত্রিম রাসায়নিক রঙের নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।"
হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সুভাষ চন্দ্র দেব বলেন, গাছটির বীজ থেকে প্রাপ্ত রঞ্জক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে, প্রসাধনী, সানস্ক্রিন, কীটপতঙ্গ প্রতিরোধক এবং ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি বৈশ্বিকভাবে খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মৌলভীবাজার শহরতলি, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক সংলগ্ন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মির্জা মেহেদী সরোয়ার (বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা), সুভাষ চন্দ্র দেব (উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ অক্টোবর (দৃশ্য দেখা), ১০-১২ বছর (গাছের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!