📌 বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা বিরল গাঢ়বুক ছাতারের (Stachyris Nigriceps) সন্ধানে গিয়েছিলেন একজন পাখি বিশেষজ্ঞ। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২৬ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামের হাজারিখিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে পাখিটির ছবি তুলতে সফল হন তিনি। এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Stachyris Nigriceps, দেহের দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার ও ওজন ১৫ গ্রাম
বাংলাদেশের মিশ্র চিরসবুজ বনের গোপনাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা বিরল পাখি গাঢ়বুক ছাতারের (Stachyris Nigriceps) সন্ধানে গিয়েছিলেন একজন পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ডা. আ ন ম আমিনুর রহমানের লেখা এই প্রতিবেদনে বর্ণিত হয়েছে, কীভাবে তিনি ২০১৮ সালের ৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই বিরল পাখির সন্ধানে লড়াই করেছেন এবং কীভাবে অবশেষে সফল হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৮ সালের ৬ মার্চ হবিগঞ্জের সাতছড়ির জাতীয় উদ্যানের পুণ্যি পুকুরে প্রথমবারের মতো গাঢ়বুক ছাতারের দেখা পেয়েছিলেন লেখক। কিন্তু অতিরিক্ত চঞ্চলতার কারণে পাখিটির ভালো ছবি তুলতে পারেননি।
- 📌 ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের হাজারিখিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে গিয়ে লেখক ও তার দল বিরল কাঠময়ূরের সন্ধানে গেলেও পাখিটির দেখা পেলেন না। কিন্তু ছড়ার অন্ধকারাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা ছোট পাখির দলের ছবি তুলতে সফল হন।
- 📌 এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Stachyris Nigriceps। ইংরেজিতে এর নাম গ্রে-থ্রটেড ব্যবলার। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে এর দেখা মেলে।
- 📌 পাখিটির দেহের দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১৫ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। মাথায় কালচে চাঁদি, চোখের বলয় সাদাটে এবং গলায় কালো-সাদা-ধূসরের মিশ্রণ রয়েছে।
- 📌 এই পাখি মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। ঝোপঝাড় ও বাঁশঝাড়ে দল বেঁধে কীটপতঙ্গ, ফলমূল ও বীজ খায়। ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজননকাল।
📰 বিস্তারিত
২০১৮ সালের ৬ মার্চ বিকেল চারটার সময় হবিগঞ্জের সাতছড়ির জাতীয় উদ্যানের পুণ্যি পুকুরের পাশে বসে লেখক পাখিরা গোসল করতে দেখছিলেন। সাদা-কালো ডোরাকাটা মাথা ও গলার একটি পাখি আচমকা পানিতে নামল। লেখক দ্রুত ক্যামেরায় ক্লিক করলেও পাখিটির অতিরিক্ত চঞ্চলতার কারণে কোনো ভালো ছবি তুলতে পারেননি। পরের কয়েক বছরেও পুণ্যি পুকুরে পাখিটির ছবি তুলতে লেখক ব্যর্থ হন। অবশেষে গত ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের হাজারিখিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে গিয়ে লেখক ও তার দল বিরল কাঠময়ূরের সন্ধানে গেলেও পাখিটির দেখা পেলেন না।
লেখক ও তার দল ছড়ার অন্ধকারাঞ্চলে লুকিয়ে থাকা ছোট পাখির দলের সন্ধানে গেলেন। চুপি চুপি ওদের পিছু নিলে কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে ক্লিক করার পর অবশেষে পাখিগুলোর ভালো ছবি তুলতে সফল হন। পরদিনও প্রায় একই সময়ে ছড়ার আরও গহিনে আরেকটি স্থানে একই প্রজাতির পাখির আরও কিছু ছবি তুলতে পেরেছিলেন লেখক।
গাঢ়বুক ছাতারের বৈজ্ঞানিক নাম Stachyris Nigriceps। এই পাখির দেহের দৈর্ঘ্য গড়ে ১২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১৫ গ্রাম। পাখিটির মাথায় কালচে চাঁদি, চাঁদির ঠিক মাঝখানটায় সাদা লম্বা দাগ এবং চোখের বলয় সাদাটে। চিবুক ও গলায় কালো-সাদা-ধূসরের মিশ্রণ রয়েছে। দেহের ওপরটা জলপাই বাদামি, কান-ঢাকনি ও বুক হালকা লালচে-পীতাভ। বগল, পেট ও লেজতল জলপাই রঙের। পা ও পায়ের পাতা বাদামি এবং ঠোঁট কালচে-ধূসর।
এই পাখি মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। বনের গাছপালা সমৃদ্ধ এলাকা, ঝোপঝাড় ও বাঁশঝাড়ে দল বেঁধে কীটপতঙ্গ, তাদের শূককীট, ফলমূল, ফুলের রস ও বীজ খুঁজে খায়। ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পাখির প্রজননকাল। এই সময় মাটি থেকে পাঁচ ফুটের মতো ওপরে পাহাড়ি ঢালের খোঁদলে, নিচু ঝোপঝাড় বা বাঁশঝাড়ে কাপ বা বাটি আকারের গোলগাল বাসা বানায়। ডিমের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচটি এবং ডিমে ছোট ছোট লালচে-বাদামি ছিট থাকতে পারে। ডিম ফুটে ছানা বের হয় প্রায় ১২ দিনে।
"প্রায় এক বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয় এই পাখি। আয়ুষ্কাল ছয় থেকে আট বছর। এই পাখি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বলে ধূসর-গলা ছাতারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই এর দেখা মেলে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, চট্টগ্রামের হাজারিখিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. আ ন ম আমিনুর রহমান (পাখি ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ)
- 👥 পাখির বৈজ্ঞানিক নাম: Stachyris Nigriceps
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটার, ওজন ১৫ গ্রাম, ডিম ফোটার সময় ১২ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!