📌 রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে ১১ জনের মধ্যে ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। রোগীরা হলেন সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)। সংক্রমণের উৎস ছিল গত ২১ আগস্ট জবাই করা অসুস্থ গরু
রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলায় অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে ১১ জনের মধ্যে তিনজন রোগীর শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআর পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া তিনজন রোগী বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় আছেন। রংপুর জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত — সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)
- 📌 ১১ জনের মধ্যে শুধুমাত্র এই তিনজনের শরীরে রোগ শনাক্ত হয়েছে, বাকিদের পরীক্ষা নেগেটিভ
- 📌 অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর সংক্রমণ প্রকাশ পায়
- 📌 এলাকার সব গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নেই
- 📌 অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের খবর পেয়ে ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায়
📰 বিস্তারিত
রংপুর জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান জানান, পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সজিব মিয়া (২৩) গত ২১ আগস্ট একটি অসুস্থ গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গরুটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি কাউকে জানিয়ে না গিয়ে জবাই করে এলাকাবাসীদের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি ও বিক্রি করেন। ওই গরুর মাংস খাওয়ার কারণে এলাকার ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদ জানান, অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর সংক্রমণ প্রকাশ পায়। এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালিয়ে দেখা যায়, আর কোনো গরু অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত নেই। সংক্রমণ ঠেকাতে এলাকার সব গরুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ রোগীর ঘা শুকিয়ে গেছে এবং কোনো ঝুঁকি নেই।
ডা. শাকিল আহমেদ আরও বলেন, অসুস্থ গরুর মাংস যাতে কেউ বিক্রি করতে না পারে সেজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগ, যা সাধারণত মে থেকে নভেম্বর মাসে বেশি দেখা যায়। মানবদেহে সংক্রমণের প্রধান রূপ হলো ত্বকের অ্যানথ্রাক্স, যা সংক্রমিত পশুর মাংস বা চামড়ার সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়।
"অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কয়েকজনের হাতে ফোসকা দেখা যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।" — পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পীরগাছা উপজেলা, রংপুর, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. ফিরোজ খান (ডেপুটি সিভিল সার্জন), ডা. মো. শাকিল আহমেদ (প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা), সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০), মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন পজিটিভ রোগী, ১১ জন পরীক্ষা করা, ২১ আগস্ট অসুস্থ গরু জবাই, ১০-১৫ দিন পর সংক্রমণ প্রকাশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!