📌 ২০০৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে একটি অজানা গাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে লেখক। গাছটির নাম ফুলসুমারি, যা পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচলিত। এর কাঠ অত্যন্ত শক্ত, লোকজ চিকিৎসায় বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Terminalia pendula var. pendula, স্থানীয় ভাষায় বিভিন্ন নামে পরিচিত
২০০৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাঙামাটির রৌদ্রময় সকালে বন্ধু পবন চাকমা একটি বিশাল মোটরসাইকেল নিয়ে হোটেল সুফিয়ায় উপস্থিত হন। সেই দিনের সফরে রাঙামাটি শহরের পাহাড়ি ঢালে একটি অচেনা গাছের সৌন্দর্যে লেখক মুগ্ধ হন। গাছটির ডালপালায় ফুলে ফুলে ভরপুর ছিল, যার ভারে শাখাগুলো নুয়ে পড়েছিল। ফুলের স্রোত ঝরনার মতো দেখতে ছিল। পবন বলেন, ‘এটি পাহাড়ি গাছ। এর কাঠ এমন শক্ত যে সেগুনের চেয়ে বেশি মূল্যবান। মানুষ সহজে কাটতে পারে না, বিশেষ করে বয়স্ক গাছের কাঠ বের করা খুব কঠিন।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫ ডিসেম্বর ২০০৮**: রাঙামাটিতে লেখক ও বন্ধু পবন চাকমা একটি অজানা গাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন, যার নাম ফুলসুমারি।
- 📌 **গাছের বৈজ্ঞানিক নাম**: *Terminalia pendula var. pendula* (পূর্বে *Anogeissus acuminata*), ইংরেজিতে ‘বাটনট্রি’ নামে পরিচিত।
- 📌 **স্থানীয় নাম**: চাকমা ভাষায় ‘ফুলসুমারি’, ম্রো ভাষায় ‘ক্রং’, খাসিয়া ভাষায় ‘টেংথ্রি’, বাংলায় ‘চাকোয়া’, ‘সাকুয়া’, ‘হেউরি’, ‘কোশই’।
- 📌 **গাছের বৈশিষ্ট্য**: ৯ থেকে ৩৫ মিটার উচ্চতা, ধূসর-রুপালি ছাল, কণ্টকযুক্ত শাখা, হলদে-সবুজ ফুল (১ সেমি চওড়া), গোলাকার ফল।
- 📌 **কাঠের শক্তি**: বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ কঠিন কাঠ, সেগুনের সমতুল্য শক্তি। লোকজ চিকিৎসায় পাতা ও মূল ব্যবহার করা হয়।
- 📌 **লোককাহিনি**: বান্দরবানের সাইরু রিসোর্টের নামকরণ করা হয়েছে একটি ম্রো তরুণীর নামে, যিনি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার পড়ার জায়গায় ফুলসুমারি ও ধারমারাগাছ জন্মে।
📰 বিস্তারিত
২০০৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাঙামাটির সকালে লেখক ও বন্ধু পবন চাকমা একটি অচেনা গাছের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন। গাছটির নাম ফুলসুমারি, যা পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচলিত। পবন বলেন, ‘এ গাছের কাঠ এত শক্ত যে তা কোনো স-মিলে চেরাই করা যায় না, করাত ভেঙে যায়। মানুষেরাও এ গাছ সহজে কাটতে পারে না, বিশেষ করে বয়স্ক গাছ হলে কাটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। পাহাড়িদের কাছে সেগুনের চেয়ে এ কাঠের কদর বেশি।’
গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম *Terminalia pendula var. pendula* (পূর্বে *Anogeissus acuminata*), যা কাঠবাদাম, বহেড়া, অর্জুনগোত্রীয় গাছ। কানাডাপ্রবাসী স্থপতি মুশতাক কাদরী জানান, এই গাছের স্থানীয় নাম ‘ফুলসুমারি’। গবেষণা থেকে জানা যায়, এর স্থানীয় নামগুলো হলো চাকমা ভাষায় ‘ফুলসুমারি’, ম্রো ভাষায় ‘ক্রং’, খাসিয়া ভাষায় ‘টেংথ্রি’, বাংলায় ‘চাকোয়া’, ‘সাকুয়া’, ‘হেউরি’, ‘কোশই’। গাছটি ৯ থেকে ৩৫ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, ছাল ধূসর-রুপালি রঙের, শাখা কণ্টকযুক্ত। পাতা ছোট, শীতকালে ঝরে যায় এবং বসন্তে নতুনভাবে গজায়। ফুলগুলো হলদে-সবুজ, ১ সেমি চওড়া গোলাকার গুচ্ছে ফোটে।
গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত, বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ কঠিন কাঠ হিসেবে গণ্য। এর পাতা থেকে গাঢ় সবুজ রং পাওয়া যায়, যা পশুদের খাওয়ানো হয়। লোকজ চিকিৎসায় গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হয়, যেমন শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে পাতার পেস্ট বা মূলের ক্বাথ দাঁতের ব্যথা উপশমে কার্যকর। গাছটি ভারত, চীন ও ভিয়েতনামেও পাওয়া যায়।
বান্দরবানের সাইরু রিসোর্টের নামকরণ করা হয়েছে একটি ম্রো তরুণীর নামে, যিনি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার পড়ার জায়গায় ফুলসুমারি ও ধারমারাগাছ জন্মে, যা দেখে মনে হয় তারা পরস্পরকে আলিঙ্গন করছে। এই লোককাহিনি আজও পার্বত্য অঞ্চলে প্রচলিত আছে।
"এ গাছের কাঠ এত শক্ত যে তা কোনো স-মিলে চেরাই করা যায় না, করাত ভেঙে যায়। মানুষেরাও এ গাছ সহজে কাটতে পারে না। পাহাড়িদের কাছে সেগুনের চেয়ে এ কাঠের কদর বেশি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটি, বাংলাদেশ (ও ভারত, চীন, ভিয়েতনাম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বন্ধু পবন চাকমা, স্থপতি মুশতাক কাদরী, লেখক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ ডিসেম্বর ২০০৮, ৯-৩৫ মিটার উচ্চতা, ৩-৪ সেমি পাতা, ১ সেমি ফুল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!