📌 প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের জন্য উৎপাদক, ভোক্তা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় দরকার। পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বুড়িগঙ্গায় ৬-৮ ফুট প্লাস্টিক স্তর জমে আছে। ইপিআর-২০২৬ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবিকরণ
প্লাস্টিক দূষণ বাংলাদেশের একটি ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত বিপদে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিকের উৎপাদন, ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এককভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এজন্য উৎপাদনকারী, ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সঠিক সমন্বয় ও দায়িত্ববোধের প্রয়োজন। গত বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর-২০২৬)’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বুড়িগঙ্গার তলদেশে ৬ থেকে ৮ ফুট প্লাস্টিকের স্তর জমে আছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে
- 📌 ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৮০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে — ১৫ হাজার টন থেকে ১৮ লাখ টনে পৌঁছেছে
- 📌 পরিবেশ অধিদপ্তর ইপিআর-২০২৬ নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব নিতে হবে
- 📌 অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক খাতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা করছে
- 📌 পিইটি প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার লাভজনক হলেও বহুস্তরবিশিষ্ট প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার অর্থনৈতিকভাবে লাভহীন
- 📌 স্থানীয় সরকারকে ইপিআর নির্দেশিকার বিষয়ে অবহিত করা দরকার, যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়
📰 বিস্তারিত
প্লাস্টিক দূষণ বাংলাদেশের একটি ভয়াবহ পরিবেশগত সমস্যা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, প্লাস্টিকের দূষণ স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বুড়িগঙ্গার তলদেশে ৬ থেকে ৮ ফুট প্লাস্টিকের স্তর জমে আছে। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক একটা ভয়াবহ দুর্যোগ তৈরি করছে আমাদের জন্য।’
প্লাস্টিকের ব্যবহার ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৮০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার ১৫ হাজার টন থেকে ১৮ লাখ টনে পৌঁছেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর গত আগস্টে প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর-২০২৬)’ নামে একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এই নির্দেশিকার আওতায়, প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব নিতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে দুই লাখ অনানুষ্ঠানিক শ্রমিককে আনুষ্ঠানিক খাতে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একদম ইন-লাইনে আছে। তাদের উৎসাহ দিতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ডের মতো আনুষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।’
বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ বলেছেন, পিইটি প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারের হার বেশি হলেও বহুস্তরবিশিষ্ট প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহার অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। তিনি বলেন, ‘সেগুলোর বড় অংশই সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের বাইরে থেকে যায়। সেটা কীভাবে সংগ্রহের আওতায় আনা যায়, সেটা আমাদের ভাবতে হবে।’
স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিক রিসাইকেল করার সময় দেখা যায়, সেখানে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নেই। তিনি বলেন, ‘এটা যখন থাকবে না, তখন আমরা বর্জ্য আলাদা করা নিয়ে জটিলতার মুখোমুখি হই। স্থানীয় সরকারকে ইপিআর নির্দেশিকার বিষয়ে অবহিত করা দরকার।’
প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া টি আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনানুষ্ঠানিক খাতের ভূমিকা প্রধান। তিনি বলেন, ‘তাদের আইনি বা প্রশাসনিক ভয় থেকে মুক্ত রেখে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং নীতি নির্ধারণে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।’
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির সময় এসব বর্জ্য শহরের জলাবদ্ধতা তীব্র করে তুলছে। তবে এ উদ্যোগের সুফল পেতে হলে শুধু বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, ইপিআর বাস্তবায়ন করতে হবে তৃণমূল পর্যায়েও।’
"প্লাস্টিক একটা ভয়াবহ দুর্যোগ তৈরি করছে আমাদের জন্য। স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি এটি জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। বুড়িগঙ্গার তলদেশে ৬ থেকে ৮ ফুট প্লাস্টিকের স্তর জমে আছে।" — পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (কারওয়ান বাজার), নারায়ণগঞ্জ, সুইজারল্যান্ড
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবদুল্লাহ আল মামুন, সামিম আহমেদ, মালিক মোহাম্মদ সাঈদ, সুমাইয়া টি আহমেদ, আজমান আহমদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬-৮ ফুট (প্লাস্টিক স্তর), ৮০ গুণ (বৃদ্ধি), ১৫ হাজার টন (১৯৯০), ১৮ লাখ টন (২০১৮), ২৮ বছর (১৯৯০-২০১৮)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!