📌 পিরোজপুরে ডেঙ্গুর বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ৮ মাসে ২ হাজার ৮৬ জন আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮৫ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
পিরোজপুর জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে এখানেই বর্তমানে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু আক্রান্তের রেকর্ড। গত ৮ মাসে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ২ হাজার ৮৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মোট ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ৮ মাসে পিরোজপুরে ২ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত, সর্বোচ্চ রেকর্ড বরিশাল বিভাগে
- 📌 বর্তমানে ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন, এর মধ্যে ৩৫ জন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে
- 📌 গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জন নতুন রোগী ভর্তি, শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতেও চিকিৎসা
- 📌 ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১ জন, ১ হাজার ৯৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন
- 📌 আইইডিসিআর অনুসন্ধানে পানিতে জমে থাকা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে
- 📌 রোগী মারুফা আক্তার বলেছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চিকিৎসা পেতে কষ্ট হচ্ছে
- 📌 জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের সংকট
- 📌 মশা নিধন ছাড়াও প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি
📰 বিস্তারিত
পিরোজপুর জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপের কারণ অনুসন্ধানে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) একটি দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে। তাদের অনুসন্ধানে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি এডিস মশার অন্যতম প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেটে রাখা সুপারি গাছের গোড়া, ডাবের খোসা, নার্সারির টব, বাসাবাড়ির ছাদ এবং নির্মাণাধীন ভবনের নালায় জমে থাকা পানি এডিসের লার্ভার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করছে।
জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত এনএস১ পরীক্ষার কিট, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। তবে শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে।
চিকিৎসাধীন রোগী মারুফা আক্তার বলেন, “চার দিন ধরে তীব্র জ্বর, দুর্বলতা ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে কষ্ট হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, মশারি ব্যবহারে অনীহাও দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা জরুরি, কারণ মশা কামড়ালে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
"শুধু মশা নিধনের ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল, নাজিরপুর, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ, কাউখালী, মঠবাড়িয়া, জিয়ানগর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, ডা. মো. মতিউর রহমান, মারুফা আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার ৮৬ জন (আক্রান্ত), ৮৫ জন (চিকিৎসাধীন), ৫০ জন (২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি), ৩৫ জন (পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!