📌 দক্ষিণ মহাসাগরের জাভোদোভস্কি দ্বীপে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনির ৬৩ শতাংশ পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন এই বিপর্যয়ের জন্য।
দক্ষিণ মহাসাগরের জাভোদোভস্কি দ্বীপে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনির বিপর্যয়কর পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৪ বছরে এই দ্বীপ থেকে প্রায় এক-চতুর্থাংশ পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনকে এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৩ শতাংশ পেঙ্গুইন হারিয়েছে জাভোদোভস্কি দ্বীপে — ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা ৬৩ শতাংশ কমেছে।
- 📌 পাঁচ লাখেরও বেশি পেঙ্গুইন উধাও — দ্বীপের মোট পেঙ্গুইনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়ে গেছে।
- 📌 জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী — বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট উষ্ণতা বৃদ্ধি পেঙ্গুইনদের জীবনযাপনকে বিপন্ন করছে।
- 📌 দুর্গম দ্বীপে গবেষণা — বিজ্ঞানীরা দুই সপ্তাহের দুর্গম যাত্রার পর জাভোদোভস্কি দ্বীপে পৌঁছেছেন এবং পেঙ্গুইনদের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- 📌 বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনি হারিয়েছে খেতাব — ২০১১ সালে ঘোষিত এই খেতাবটি হারিয়ে ফেলেছে দ্বীপটি।
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ মেরুর উত্তরে অবস্থিত সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের পাথুরে জাভোদোভস্কি দ্বীপে বাস করত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা ২০২৩ সালে দ্বীপটিতে গিয়ে দেখেছেন, চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষক ও এই গবেষণার প্রধান নরম্যান র্যাটক্লিফ বলেছেন, ‘অ্যান্টার্কটিকার কোনো একটি জায়গায় প্রাণীদের প্রজাতিগত গঠনে এত বড় পরিবর্তন আগে কখনো দেখা যায়নি।’
বিজ্ঞানীরা আকাশ থেকে তোলা ছবি ও কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের দখলে থাকা বাসার সংখ্যা ৬৩ শতাংশ কমে গেছে। এই দ্বীপে বাস করা পেঙ্গুইনদের মধ্যে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের চেনা যায় তাদের থুতনির নিচে কালো পালকের সরু রেখা থেকে। এই পেঙ্গুইনরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের বাসস্থান বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
দ্বীপটিতে পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞানীদের দুই সপ্তাহের দুর্গম যাত্রা করতে হয়েছে। নিকটতম স্থায়ী জনবসতি থেকে জাভোদোভস্কি দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল। পরিবেশের প্রতিকূলতা এবং ভয়ংকর ঝড়ের কারণে বিজ্ঞানীরা খুব কমই এই দ্বীপে গিয়ে গবেষণা করতে পারেন।
র্যাটক্লিফ আরও বলেছেন, ‘উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইন বেশ পরিষ্কার সংকেত দিচ্ছে। প্রতিবছর পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ৭ শতাংশ কমছে।’ বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য অগ্ন্যুৎপাত নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। কারণ, অগ্ন্যুৎপাতের কয়েক বছর আগেই সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল।
"অ্যান্টার্কটিকার কোনো একটি জায়গায় প্রাণীদের প্রজাতিগত গঠনে এত বড় পরিবর্তন আগে কখনো দেখা যায়নি। মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই বিপুলসংখ্যক পেঙ্গুইন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।"
— নরম্যান র্যাটক্লিফ, ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাভোদোভস্কি দ্বীপ, দক্ষিণ মেরুর উত্তরে, সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নরম্যান র্যাটক্লিফ (ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩ শতাংশ (পেঙ্গুইন সংখ্যা কমেছে), ১৪ বছর (পরিস্থিতি অবনতির সময়কাল), ৭ শতাংশ (প্রতিবছর পেঙ্গুইন সংখ্যা কমছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!