📌 পরকালে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ না পাওয়ার মানুষদের বিচার কীভাবে হবে? আলেম শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, তাদের কাছে দ্বীনের আলো না পৌঁছলে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলার দায়িত্ব তাদের ওপর নেই। তবে তাদের ভেতরের ফিতরাত ও তাওহিদের প্রতি বিশ্বাসের ওপর বিচার হবে
পরকালে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর সুযোগ না পাওয়ার মানুষদের বিচার কীভাবে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি জুমার বয়ানে বলেছেন, যাদের কাছে দ্বীনের আলো বা কোরআনের নির্দেশনা পৌঁছেনি, তাদের কাছে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলার দায়িত্বও নেই। তবে তাদের ভেতরের ফিতরাত ও নৈতিকতা অনুযায়ী বিচার করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ইসলামের দাওয়াত না পাওয়ার মানুষদের কাছে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলার দায়িত্ব নেই।
- 📌 পরকালে তাদের বিচার হবে তাদের ভেতরের ফিতরাত ও তাওহিদের প্রতি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে।
- 📌 তারা কোরআনের নির্দেশনা না পাওয়ার কারণে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরের কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।
- 📌 হাশরের ময়দানে তাদের প্রশ্ন করা হবে তাওহিদের প্রতি বিশ্বাস এবং মানবিক ন্যায়বিচারের ওপর।
- 📌 বর্তমান প্রযুক্তির তুলনায় আল্লাহর ইনসাফের মানদণ্ড অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও নিখুঁত।
📰 বিস্তারিত
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেনি, তাদের কাছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া বা হালাল-হারামের বিধান মেনে চলার দায়িত্ব নেই। কারণ, শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো মানুষের কাছে দ্বীনের নির্দেশ না পৌঁছালে সেটির হিসাবও তার কাছে চাওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন যে, পরম সৃষ্টিকর্তা কোনো মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরের কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।
তবে শরিয়তের আচার-অনুষ্ঠান থেকে ছাড় পেলেও তারা প্রশ্নাতীত থেকে যাবেন না। প্রতিটি মানুষের ভেতরেই জন্মগতভাবে একটি ‘ফিতরাত’ বা সহজাত বিবেক-বুদ্ধি বিদ্যমান থাকে। এই ফিতরাতের ওপর ভিত্তি করেই হাশরের ময়দানে তাদের দুটি মৌলিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। প্রথমত, তারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করেছিল কি না। দ্বিতীয়ত, তারা অন্য মানুষের প্রতি কোনো জুলুম বা অবিচার করেছে কি না।
আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, বর্তমান এআই প্রযুক্তি ও সিসি ক্যামেরার যুগে মানুষের গতিবিধি নিরূপণ করা সম্ভব হলেও, আল্লাহর ইনসাফের মানদণ্ড তা থেকে অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও নিখুঁত। তিনি বলেন, মানুষের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে আল্লাহর অসীম ইনসাফকে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। পরম বিচারক আল্লাহ তাআলা কারো ওপর বিন্দুমাত্র জুলুম করবেন না, বরং তাঁর পরম ন্যায়বিচার দিয়েই হাশরের ময়দানে বান্দার হিসাব নিষ্পন্ন করবেন।
"আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, পরম সৃষ্টিকর্তা কোনো মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরের কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জুমার বয়ান (অনলাইন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শায়খ আহমাদুল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৪ মিনিট ০ সেকেন্ড (এএম), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!