📌 অক্টোবর মাসে আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি উল্লেখযোগ্য উল্কাবৃষ্টি — ড্রাকোনিড ও ওরায়নিড — এবং হ্যালির ধূমকেতুর কণার কারণে। ঢাকার আলোকদূষণ থেকে দূরে পাহাড়ে গিয়ে আকাশের নক্ষত্রমণ্ডল ও উল্কা দেখার আয়োজন করা হয়েছে
অক্টোবর মাসে আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশের বিভিন্ন আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে। ঢাকার আলোকদূষণে আকাশের নক্ষত্রমণ্ডল ও উল্কাবৃষ্টি দেখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু পাহাড়ের মতো পরিষ্কার আকাশে এসব দেখার সুযোগ রয়েছে। একদল তরুণ বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ‘তারায় তারায় খচিত’ নামে আয়োজন করে আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য পাহাড়ে গেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮ ও ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে — সন্ধ্যা থেকে গভীর রাতে পর্যন্ত জেগে থাকার প্রয়োজন নেই।
- 📌 ২১ অক্টোবর সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখাবে ওরায়নিড উল্কাবৃষ্টি, যা হ্যালির ধূমকেতুর কণার কারণে ঘটে।
- 📌 উল্কা দেখতে শহরের আলো থেকে দূরে এবং চাঁদের আলো কম থাকা সময়ে গিয়ে চোখকে অন্ধকারে মানিয়ে নেওয়া জরুরি।
- 📌 ঘণ্টায় ৩ থেকে ৬টি উল্কা দেখা যেতে পারে শহরের কাছাকাছি জায়গা থেকে, অন্ধকার জায়গা থেকে সংখ্যা বেশি হতে পারে।
- 📌 নক্ষত্রমণ্ডল চেনা, মহাকাশের গল্প শোনা এবং টেলিস্কোপের মাধ্যমে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের আয়োজন ‘তারায় তারায় খচিত’।
📰 বিস্তারিত
ঢাকার আলোকদূষণে রাতের আকাশ দেখার সুযোগ কমে যায়। চারপাশের উজ্জ্বল আলো পৃথিবীর নক্ষত্রমণ্ডলকে ম্লান করে দেয়। তাই একদল তরুণ বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ‘তারায় তারায় খচিত’ নামে আয়োজন করে আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য পাহাড়ে গেছেন। টেলিস্কোপ নিয়ে নিয়ে গেছেন তারা। এই আয়োজনে রাতের আকাশ চেনা, নক্ষত্রমণ্ডল খুঁজে বের করা এবং মহাকাশ নিয়ে নতুন কিছু জানার সুযোগ রয়েছে।
অক্টোবর মাসে আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি উল্লেখযোগ্য উল্কাবৃষ্টি ঘটছে। প্রথমটি হলো ড্রাকোনিড, যা ৮ ও ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর রাতে পর্যন্ত দেখা যাবে। এই উল্কাবৃষ্টির বিশেষত্ব হলো, সন্ধ্যা থেকে শুরু করে উল্কা দেখা যায়, তাই গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার প্রয়োজন নেই। ড্রাকোনিড নামটি এসেছে ড্রাকো নক্ষত্রমণ্ডল থেকে, কারণ এই নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে থেকে উল্কাগুলো ছুটে আসে। সাধারণত এই উল্কাবৃষ্টি খুব বেশি উল্কা তৈরি করে না, তবে কোনো কোনো রাতে সংখ্যা বেড়েও যেতে পারে।
অক্টোবরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উল্কাবৃষ্টি হলো ওরায়নিড, যা ২১ অক্টোবর সর্বোচ্চ সক্রিয়তা দেখাবে। এই উল্কাবৃষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর গল্প। হ্যালির ধূমকেতু সূর্যকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘোরে এবং তার পথে ধুলা ও ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবী প্রতিবছর অক্টোবর মাসে এই কণাপুঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, ফলে উল্কাবৃষ্টি ঘটে। ওরায়নিড নামটি এসেছে অরায়ন বা কালপুরুষ নক্ষত্রমণ্ডল থেকে, কারণ এই নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে থেকে উল্কাগুলো ছুটে আসে বলে মনে হয়।
উল্কা দেখতে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। বরং খালি চোখেই আকাশের বিস্তৃত অংশে নজর রাখা ভালো। শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে গিয়ে চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিতে হয়। এরপর ধৈর্য ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, শহরের কাছাকাছি জায়গায় ঘণ্টায় ৩ থেকে ৬টি উল্কা দেখা যেতে পারে। অন্ধকার জায়গা থেকে দেখলে সংখ্যাটি কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে উল্কা দেখার জন্য শুধু নির্দিষ্ট তারিখ জানলেই হবে না। আকাশ পরিষ্কার থাকা জরুরি। চাঁদের আলো বেশি থাকলে ম্লান উল্কাগুলো দেখতে অসুবিধা হতে পারে। তাই সম্ভব হলে চাঁদের আলো কম থাকা সময়ে এবং শহরের আলোকদূষণ থেকে দূরে গিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা ভালো।
"আমরা শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি। টেলিস্কোপের মাধ্যমে নক্ষত্রমণ্ডল চেনা এবং উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আয়োজক তরুণ দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ ও ৯ অক্টোবর (ড্রাকোনিড), ২১ অক্টোবর (ওরায়নিড), ৩-৬টি (ঘণ্টায় উল্কা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!