📌 যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য পারমাণবিক চুল্লি তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চুল্লি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে রাশিয়া ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০ কিলোওয়াট উৎপাদনকারী স্বয়ংক্রিয় চুল্লি তৈরি করবে। বিজ্ঞানীরা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কথা সতর্কতা জানিয়েছেন
চাঁদে স্থায়ী মহাকাশ ঘাঁটি নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া তিনটি পরাশক্তি পারমাণবিক চুল্লি তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন, প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান এবং গভীর মহাকাশ অভিযান পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলিকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক চুল্লি তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলেছে, যা চাঁদের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **যুক্তরাষ্ট্রের নাসা** ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে **২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী** পারমাণবিক চুল্লি ‘লুনার রিঅ্যাক্টর ১’ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা **পাঁচ বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে** কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- 📌 **চীন ও রাশিয়া** ২০৩৬ সালের মধ্যে **১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী** ‘সেলেনা’ নামের পারমাণবিক চুল্লি তৈরির পরিকল্পনা করেছে, যা **এক দশক পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে** কাজ করতে সক্ষম হবে।
- 📌 **চাঁদের দীর্ঘ রাতের সমস্যা** মোকাবিলা করতে পারমাণবিক চুল্লি সৌরশক্তির বিকল্প হিসেবে কাজ করবে, কারণ চাঁদের এক রাত **দুই সপ্তাহেরও বেশি** স্থায়ী হয়।
- 📌 **বিজ্ঞানীরা সতর্কতা জানিয়েছেন**, পারমাণবিক চুল্লি উৎক্ষেপণে তাড়াহুড়ো করলে **রকেট ব্যর্থ হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি** তৈরি হতে পারে।
- 📌 **আউটার স্পেস ট্রিটি** অনুযায়ী চাঁদকে কোনো দেশের মালিকানা হিসেবে দাবি করা যাবে না, কিন্তু **পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের ফলে সীমিত এলাকা তৈরি** হতে পারে, যা মহাকাশে অবাধ প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
📰 বিস্তারিত
চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য পারমাণবিক শক্তি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে তিনটি পরাশক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের নাসা গত আগস্টে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি পারমাণবিক চুল্লি তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলেছে, যা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে স্থাপন করা হবে। এই চুল্লি **রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই** দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকবে এবং চাঁদের প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও গভীর মহাকাশ অভিযান পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
নাসার প্রস্তাবিত ‘লুনার রিঅ্যাক্টর ১’ থেকে **২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ** উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি **পাঁচ বছর পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে** কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়ার যৌথ প্রকল্প ‘সেলেনা’ চুল্লি **১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ** উৎপাদন করবে এবং **এক দশক পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে** কার্যকর থাকবে। এই চুল্লিগুলো চাঁদের চন্দ্রঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, যেখানে দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, কিন্তু **দুই সপ্তাহেরও বেশি স্থায়ী চাঁদের রাতের সময়** সৌরশক্তি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞানীরা সতর্কতা জানিয়েছেন যে, পারমাণবিক চুল্লি উৎক্ষেপণে তাড়াহুড়ো করলে **রকেট ব্যর্থ হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি** তৈরি হতে পারে। চাঁদে চুল্লি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণও কঠিন হবে, কারণ পৃথিবীর পারমাণবিক চুল্লির বিপরীতে চাঁদের চুল্লিগুলোকে **বিশেষ নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে সুরক্ষিত রাখা কঠিন** হবে। তাই নভোচারী ও যন্ত্রপাতি বিকিরণের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে চুল্লির আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রবেশ সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে।
"যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের পারমাণবিক চুল্লি **নিষ্ক্রিয় অবস্থায়** চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এতে পরিবহনের সময় কিছু ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। তবে নিরাপত্তা পর্যালোচনার পরও সম্ভাব্য দুর্ঘটনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁদের দক্ষিণ মেরু, চাঁদের স্থায়ী ঘাঁটি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসা, বিজ্ঞানীরা, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ কিলোওয়াট (নাসার চুল্লি), ১০ কিলোওয়াট (রাশিয়া-চীন চুল্লি), ৫ বছর (নাসার চুল্লির কার্যকাল), ১০ বছর (রাশিয়া-চীন চুল্লির কার্যকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!