📌 চীনের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে অস্ত্রোপচারের পর বমি ভাব কমাতে নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, হেডফোন পরানো রোগীদের মধ্যে বমির হার কমে ৩৫ শতাংশে, অন্যদের মধ্যে ৫২ শতাংশে
অস্ত্রোপচারের পর বমি ভাবের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে অপারেশন থিয়েটারে রোগীর কানে এই হেডফোন পরিয়ে দেওয়া বমি ভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় প্রচণ্ড বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা, যা রোগীদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। ডাক্তাররা এই সমস্যা দূর করতে ওষুধ দেন, কিন্তু সবসময় তা পুরোপুরি কাজ করে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চীনের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে অস্ত্রোপচারের পর বমি ভাব কমাতে নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন কার্যকর হতে পারে
- 📌 গবেষণায় ১৯২ জন নারী রোগীকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যাদের মধ্যে হেডফোন পরানো রোগীদের বমির হার ৩৫ শতাংশে নেমে আসে
- 📌 অন্য দলের রোগীদের মধ্যে বমির হার ছিল ৫২ শতাংশ, যা হেডফোন পরানো রোগীদের তুলনায় বেশি
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, অ্যানেস্থেসিয়া মস্তিষ্কের মেইন সুইচ অফ করে না, বরং শরীরকে অজ্ঞান করে রাখে
- 📌 অপারেশন থিয়েটারের শব্দ থেকে মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেমের নির্দিষ্ট অংশে চাপ পড়লে বমি হয়
📰 বিস্তারিত
অস্ত্রোপচারের পর বমি ভাবের সমস্যা অনেক রোগীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। ডাক্তাররা এই সমস্যা দূর করতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেন, কিন্তু সবসময় তা পুরোপুরি কার্যকর হয় না। এবার বিজ্ঞানীরা একটি নতুন সমাধান নিয়ে এসেছেন। চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের গবেষক হুয়াইউ লিউ এবং তাঁর দল আবিষ্কার করেছেন যে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর কানে নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন পরিয়ে দেওয়া বমি ভাব কমাতে পারে।
গবেষণায় ১৯২ জন নারী রোগীকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। রোগীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। এক দলের রোগীদের অস্ত্রোপচারের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত কানে নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন পরিয়ে রাখা হয়। অন্য দলের রোগীদের কানে হেডফোন দেওয়া হয়নি। তবে দুই দলের সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী অজ্ঞান করার ওষুধ এবং বমি রোধ করার স্ট্যান্ডার্ড ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর ৪৮ ঘণ্টা পর দেখা যায় যে, হেডফোন পরানো রোগীদের মধ্যে মাত্র ৩৫ শতাংশ রোগীর বমি বা বমি বমি ভাব দেখা গেছে। অন্যদিকে, হেডফোন পরানো না থাকা রোগীদের মধ্যে ৫২ শতাংশই এই সমস্যায় ভুগেছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যানেস্থেসিয়া মস্তিষ্কের মেইন সুইচ অফ করে না। অপারেশন থিয়েটারে শরীরকে অজ্ঞান করে রাখা হলেও, মস্তিষ্ক চারপাশের শব্দকে প্রসেস করে চলতে থাকে। এই শব্দ থেকে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেমের নির্দিষ্ট অংশে গিয়ে ধাক্কা মারে, যা বমি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অপারেশন শেষে রোগীর ভয়ংকর বমি শুরু হয়। নয়েজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন এই শব্দকে ব্লক করে, ফলে বমির সমস্যা কমে যায়।
"অ্যানেস্থেসিয়া মস্তিষ্কের মেইন সুইচ অফ করে না, বরং শরীরকে অজ্ঞান করে রাখে। মস্তিষ্ক চারপাশের শব্দকে প্রসেস করে চলতে থাকে। এই শব্দ থেকে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ বমি নিয়ন্ত্রণকারী ব্রেনস্টেমের অংশে চাপ পড়লে বমি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীনের সুচৌ ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হুয়াইউ লিউ (গবেষক), ভিগি ক্যাটলোউইটজ (বেলর কলেজ অব মেডিসিন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯২ জন রোগী, ৩৫ শতাংশ, ৫২ শতাংশ, ৪৮ ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!