📌 নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর বিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদদের জীবনে কী পরিবর্তন আসে? হার্ভার্ড গেজেটের এক প্রতিবেদনে ক্লডিয়া গোল্ডিন, গ্যারি রুভকুন ও অমর্ত্য সেনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। নোবেল পাওয়ার পর তাদের গবেষণার দিক, সামাজিক চাপ এবং নতুন দায়িত্বের কথা জানা গেছে
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মুহূর্ত একজন গবেষকের জীবনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার পর কীভাবে জীবন বদলে যায়, গবেষণার দিক পরিবর্তিত হয় কি না, এবং খ্যাতির সাথে নতুন দায়িত্বের সংগ্রাম কেমন হয়—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদমাধ্যম হার্ভার্ড গেজেট নোবেলজয়ীদের সঙ্গে কথা বলেছে। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাদের জীবনে কী পরিবর্তন আসে, সেই গল্প শোনা যাক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ক্লডিয়া গোল্ডিন ২০২৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি বলেছেন, পুরস্কার পাওয়ার পর প্রথমে পোশাক, বক্তৃতা, এবং সামাজিক চাপের মতো নতুন বিষয়গুলোর সাথে মোকাবেলা করতে হয়েছিল।
- 📌 পুরস্কার ঘোষণার পর প্রথম তিন দিনে ১৬০০টি ই-মেইল পেয়েছিলেন ক্লডিয়া গোল্ডিন। এর মধ্যে বন্ধু-বান্ধবের অভিনন্দন থেকে শুরু করে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অর্থ প্রদানের অনুরোধ পর্যন্ত ছিল।
- 📌 নোবেল পাওয়ার পর ৩০ জন শিক্ষার্থীর প্লেসমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ক্লডিয়া গোল্ডিন। পুরস্কার পাওয়ার পর তার ওপর কাজের চাপ আরও বেড়ে গিয়েছিল।
- 📌 ক্লডিয়া গোল্ডিন বলেছেন, ‘না’ বলতে শিখেছেন। তিনি বলেন, খুব ভদ্রভাবে অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে শিখেছেন, কারণ তিনি কখনো টাকার বিনিময়ে পরামর্শ দেননি।
- 📌 নোবেল পাওয়ার পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধে তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন—একটি হলো বেসবল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং অন্যটি ছিল বোস্টন রেড সক্সের খেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বল ছোড়া।
📰 বিস্তারিত
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর একজন গবেষকের জীবনে কী পরিবর্তন আসে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হার্ভার্ড গেজেটের প্রতিবেদনে নোবেলজয়ীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন অর্থনীতিবিদ ক্লডিয়া গোল্ডিন ২০২৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। তিনি বলেছেন, পুরস্কার পাওয়ার পর প্রথমে তার জীবনে অনেক নতুন বিষয় আসে। যেমন, লম্বা গাউন, পায়ের মোজা আর হাই হিল জুতা পরার মতো বিষয়গুলো। তিনি বলেন, “আমাকে একটি বক্তব্য লিখতে হয়েছিল, নোবেল ভোজসভার জন্য একটি বক্তৃতা লিখতে হয়েছিল, এবং এমন আরও একশ একটার মতো বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়েছিল।”
ক্লডিয়া গোল্ডিনের জীবনে নোবেল পুরস্কার একটি বড় পরিবর্তন আনে। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তিনি ৩০ জন শিক্ষার্থীর প্লেসমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুরস্কার পাওয়ার পর তার ওপর কাজের চাপ আরও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “প্রথম দিকে এমন সব বিষয় নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে সাধারণত আমাকে ভাবতেই হয় না। কিন্তু আজ যখন সেই দিনগুলো মনে করি, আমার ভীষণ আনন্দ হয়। খুব খুশি মনে সেই দিনগুলোর কথা ভাবি।”
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ক্লডিয়া গোল্ডিনের ই-মেইল বক্সে ১৬০০টি ই-মেইল আসে। এর মধ্যে বন্ধু-বান্ধবের অভিনন্দন থেকে শুরু করে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য অর্থ প্রদানের অনুরোধ পর্যন্ত ছিল। তিনি বলেন, “আমি প্রতিটি ই-মেইলই পড়েছি। অনেকগুলো ছিল বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের অভিনন্দনবার্তা। আবার এমন অনেক মানুষও যোগাযোগ করেছিলেন, যারা আমাকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ করতে বলেছিলেন বা বক্তৃতা দেওয়ার জন্য টাকা দিতে চেয়েছিলেন।”
ক্লডিয়া গোল্ডিন বলেন, তিনি কখনো টাকার বিনিময়ে পরামর্শ দেননি। তাই তিনি কোনো এজেন্ট নেননি। তবে তিনি শিখেছেন, “খুব সুন্দর করে ‘না’ বলতে। মানুষকে কীভাবে—‘দয়া করে আমাকে এসব থেকে মুক্তি দিন’—কথাটা ভদ্রভাবে বলতে হয়, সেটাও শিখে গিয়েছিলাম।”
নোবেল পাওয়ার পর ক্লডিয়া গোল্ডিন দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন। প্রথমটি ছিল ‘ওয়েট, ওয়েট, ওয়েট... ডোন্ট টেল মি!’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। দ্বিতীয়টি ছিল বোস্টন রেড সক্স এবং নিউইয়র্ক ইয়াংকির একটি বেসবল খেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বল ছোড়া। তিনি বলেন, “আমি টানা ছয় সপ্তাহ অনুশীলন করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বলটি একেবারে ঠিক জায়গায় গিয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ স্ট্রাইক হয়েছিল।”
"আমাকে একটি বক্তব্য লিখতে হয়েছিল। নোবেল ভোজসভার জন্যও একটি বক্তৃতা লিখতে হয়েছিল। একটি পোশাকও কিনতে হয়েছিল। সব মিলিয়ে এমন আরও একশ একটার মতো বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়েছে। সে সময় আমি ক্লাস নিচ্ছিলাম। চাকরির বাজারে নামতে ইচ্ছুক অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনও করছিলাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, বোস্টন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্লডিয়া গোল্ডিন (অর্থনীতিবিদ ও নোবেলজয়ী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬০০টি ই-মেইল, ৩০ জন শিক্ষার্থী, ৬ সপ্তাহ অনুশীলন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!