📌 নোবেল পুরস্কারের অর্থ সর্বোচ্চ তিনজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করা যায়। ২০১১ ও ২০২২ সালের শান্তি নোবেল পুরস্কার তিনজন যৌথভাবে পেয়েছিলেন। নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে এই সীমা রয়েছে, তবে এর পেছনের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি
বিজ্ঞান ও সাহিত্যে সারা পৃথিবীর মানুষের জীবন উন্নত করতে গিয়ে পাঁচজন বন্ধু যদি একসাথে একটি বিপ্লবী আবিষ্কার করে, তাহলে কি তারা যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পাবেন? উত্তর হলো না। নোবেল ফাউন্ডেশনের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, একটি নোবেল পুরস্কারের অর্থ সর্বোচ্চ তিনজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করা যায়। এই সীমা মানতে হয়, এমনকি যদি গবেষণায় আরও অনেকের অবদান থাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোবেল পুরস্কারের অর্থ সর্বোচ্চ তিনজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করা যায়—এই সীমা নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে উল্লেখিত
- 📌 ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার চালু, শুরুতে পাঁচ বিভাগে (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি), পরে ১৯৬৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু হয়
- 📌 শান্তি নোবেল পুরস্কার ছাড়া অন্যান্য বিভাগে পুরস্কার শুধু ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, শান্তি নোবেলে প্রতিষ্ঠানও পুরস্কার পেতে পারে
- 📌 ২০১১ সালের শান্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ, নারী অধিকারকর্মী লেমাহ গবোয়ি এবং ইয়েমেনের অধিকারকর্মী তাওয়াক্কুল কারমান
- 📌 ২০২২ সালের শান্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি, রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনের মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ
- 📌 নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে তিনজনের বেশি পুরস্কার ভাগের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি
📰 বিস্তারিত
১৯০১ সাল থেকে শুরু হওয়া নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিনজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ ভাগ করা হয়। আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী, নোবেল পুরস্কার পাঁচটি মূল বিভাগে (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তি) চালু হয়েছিল। পরে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতিতে আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে একটি অতিরিক্ত পুরস্কার চালু করে। এই পুরস্কারও নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়।
নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো পুরস্কার একাধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করা যেতে পারে, তবে তিনজনের বেশি নয়। তবে সব পুরস্কারই তিনজনকে দেওয়া হয় না—কখনো একা, কখনো দুজন বা তিনজন মিলে পুরস্কার পান। শান্তি নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে—এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিকে নয়, কোনো প্রতিষ্ঠানকেও দেওয়া যায়।
২০১১ সালের শান্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ, লাইবেরিয়ার নারী অধিকারকর্মী লেমাহ গবোয়ি এবং ইয়েমেনের অধিকারকর্মী তাওয়াক্কুল কারমান। এই পুরস্কার ছিল নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদানের স্বীকৃতি। আবার ২০২২ সালের শান্তি নোবেল পুরস্কারও তিনজনের মধ্যে ভাগ হয়েছিল। বেলারুশের মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কি, রাশিয়ার মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়াল এবং ইউক্রেনের মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
আধুনিক বিজ্ঞানে বড় বড় দল একসাথে কাজ করে, তাই পুরস্কার ভাগের এই নিয়ম নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে তিনজনের বেশি পুরস্কার ভাগের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। বিজ্ঞানের অগ্রগতি বহু মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব হয়, এমনকি নোবেল পুরস্কার না পেলেও কাজগুলো ছোট নয়।
"নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে বলা আছে, কোনো পুরস্কার একাধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করা যেতে পারে, তবে তিনজনের বেশি নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুইডেন, লাইবেরিয়া, ইয়েমেন, বেলারুশ, রাশিয়া, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এলেন জনসন সারলিফ, লেমাহ গবোয়ি, তাওয়াক্কুল কারমান, আলেস বিয়ালিয়াতস্কি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (সর্বোচ্চ পুরস্কার ভাগের সংখ্যা), ১৯০১ (নোবেল পুরস্কার চালু), ১৯৬৮ (অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!