📌 নোয়াখালীর ৯টি জেলায় মৌসুমি জ্বর-সর্দির প্রকোপ বেড়েছে। এক পরিবারে একের পর এক জ্বর আসার ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটা সিজনাল ফ্লু, তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডেঙ্গুর ভয়ে নিজের মতো ওষুধ না খাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
নোয়াখালী জেলার ৯টি উপজেলায় মৌসুমি জ্বর ও সর্দির প্রকোপ বেড়ে গেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে হঠাৎ জ্বর-সর্দি-কাশির রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো চাপের মধ্যে পড়েছে। একই পরিবারে একের পর এক জ্বর আসার ঘটনা ঘটছে, যা বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নোয়াখালীর ৯টি জেলায় ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দির প্রকোপ বেড়েছে, ডেঙ্গুর ভয়ে মানুষ আতঙ্কিত
- 📌 ব্যাংক কর্মকর্তা নুর নবী মোহনের পরিবারে একের পর এক জ্বর আসা: ছেলে ওমর, মেয়ে ওয়াসিফা ও ছোট ছেলে ওয়ালিদের জ্বর ১০০-১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত চলে
- 📌 নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সী বলেছেন, এটা মৌসুমি জ্বর বা সিজনাল ফ্লু, তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন
- 📌 জ্বর হলে নিজের মতো ওষুধ না খাওয়ার সতর্কতা দিয়েছেন ডাক্তার, ডেঙ্গু ও সিজনাল জ্বরের পার্থক্য বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন
- 📌 ৫-৭ দিনের মধ্যে জ্বর-সর্দি ভালো হয়ে যাবে, কিন্তু ইনফেকশন যোগ হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে
📰 বিস্তারিত
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা নুর নবী মোহন জানান, প্রথমে তার বড় ছেলে ওমরের জ্বর আসে। পরে মেয়ে ওয়াসিফা ও ছোট ছেলে ওয়ালিদের জ্বর আসে। তাদের এখনো জ্বর রয়েছে। রাতে জ্বর ১০০-১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত চলে। শুকনো কাশিও দেখা দিয়েছে। ছেলের জ্বর দেখে আতঙ্কিত হন তিনি। ডাক্তারের পরামর্শে ছেলেকে জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে শুরু করেন। চার দিন পর জ্বর কমে যায়। এরপর একইভাবে জ্বর শুরু হয় স্ত্রী রিয়ারের। এই পরিবারের চিত্র শুধু তাদেরকেই নয়, নোয়াখালী জেলার প্রতিটি এলাকায় ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সী বলেন, দিনে বেশি গরম ও রাতে কিছুটা ঠান্ডা হওয়ায় এ ধরনের জ্বর ও সর্দি হয়। তিনি বলেন, “আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এই জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রাদুর্ভাব ঘটে। এটাকে আমরা সিজনাল ফ্লু বলি। ভয়ের কিছু নেই।” তিনি আরও জানান, সিজনাল ফ্লু-এর জন্য প্রচুর তরল খাবার খেতে বলা হয়। জ্বর-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ আর ঠান্ডার জন্য অ্যান্টি হিস্টামিন বা অ্যালাট্রল জাতীয় ওষুধ খেতে বলা হয়। স্বাভাবিক খাবার, ফল, শাক-সবজি বেশি খেতে হবে।
ডা. মুন্সী সতর্কতা জানিয়ে বলেন, “যদি কারো ইনফেকশন যোগ হয়ে যায়, তখন তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কাশি হলে কফ বের করার জন্য এক ধরনের সিরাপ দেওয়া হয়। এ জ্বর ও সর্দি ৫-৭ দিন পর ভালো হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “এ জ্বর হলে অনেকেই নিজের মতো করে নাপা বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খান। এটা মোটেও ঠিক নয়। যদি জ্বর হয়, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসক দেখিয়ে তার পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে। কেননা, এখন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। সিজনাল জ্বর-সর্দি নাকি ডেঙ্গু এর জন্য জ্বর-সর্দি, তা চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি ভালো বুঝবেন এবং সেই অনুপাতে পরামর্শ দেবেন। তাই নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে বলে জানান তিনি।”
"আমরা প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার খেতে বলি। জ্বর-ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ আর ঠান্ডার জন্য অ্যান্টি হিস্টামিন বা অ্যালাট্রল জাতীয় ওষুধ খেতে বলা হয়। স্বাভাবিক খাবার, ফল, শাক-সবজি বেশি খেতে হবে। তাহলে ভালো হয়ে যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নোয়াখালী জেলা (৯টি উপজেলা), মাইজদী শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সী, নুর নবী মোহন, ওমর, ওয়াসিফা, ওয়ালিদ, রিয়ার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯টি জেলা, ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, ১০০-১০৩ ডিগ্রি জ্বর, ৪ দিন, ৫-৭ দিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!