📌 আজ নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দিবস। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে নিউরাল টিউবের বিকাশে সমস্যা হলে জন্মগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ৭০% ক্ষেত্রে এটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন
আজ নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দিবসে বিশেষজ্ঞরা জন্মগত নিউরাল টিউব ডিফেক্টের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের বিকাশ নিউরাল টিউব থেকে হয়। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এই বিকাশে সমস্যা হলে শিশু জন্মগত জটিলতায় ভুগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই সমস্যা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধযোগ্য।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নিউরাল টিউব ডিফেক্টের প্রধান কারণ: মায়ের ফলিক অ্যাসিড ঘাটতি, পরিবেশগত দূষণ ও জেনেটিক কারণ
- 📌 প্রতিরোধের ৪টি মূল স্তম্ভ: গর্ভপূর্ব যত্ন, ফলিক অ্যাসিড সেবন, খাদ্য ফর্টিফিকেশন ও সামাজিক সচেতনতা
- 📌 চিকিৎসা: এনেনকেফালি হলে শিশু বাঁচতে পারে না; স্পাইন বিফিডা ও মেনিনগোসিলের জন্য সময়মতো অপারেশন প্রয়োজন
- 📌 অপারেশন না হলে রোগীদের ৭০% মাথায় পানি জমে যায়, ৮৫% কিডনি জটিলতা, ৬০% পায়ের বিকৃতি ও ২৫% ব্রেন স্টেম সমস্যা দেখা দেয়
- 📌 ঢাকার ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অবস নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদিপ্ত কুমার মূখার্জী শিশুদের এই সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বর্ণনা করেছেন
📰 বিস্তারিত
নিউরাল টিউব ডিফেক্ট একটি জটিল জন্মগত সমস্যা, যা মায়ের ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি নাইনের ঘাটতি, পরিবেশগত দূষণ ও জেনেটিক কারণের কারণে ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য গর্ভপূর্ব যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণের কমপক্ষে তিন মাস আগে থেকে মায়ের পুষ্টির প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।
ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব বিশেষভাবে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাইমারি কেয়ার সেন্টারে বিনা মূল্যে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন, গর্ভধারণের তিন মাস আগে থেকে নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড সেবন করা উচিত। এছাড়া আটা ও ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যে ফলিক অ্যাসিডের মিশ্রণ বাধ্যতামূলক করা দরকার। পারিবারিক ও সামাজিক স্তরে শাকসবজি ও ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এনেনকেফালি বা অসম্পূর্ণ মস্তিষ্কের কারণে জন্মগ্রহণকারী শিশু বাঁচতে পারে না। তবে স্পাইন বিফিডা বা দ্বিখণ্ডিত মেরুদণ্ড, মেনিনগোসিল, এনকেফালোসিল ইত্যাদি জন্মের পর অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। তবে সময়মতো অপারেশন না হলে শিশুদের শরীরে নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়।
ডা. সুদিপ্ত কুমার মূখার্জী, সহযোগী অধ্যাপক, পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জারী, ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অবস নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতাল, ঢাকা বলেছেন, "অপারেশন না হলে রোগীদের ৭০ শতাংশ মাথায় পানি জমে যায়, যা হাইড্রোসেফালাস নামে পরিচিত। এছাড়া ৮৫ শতাংশ রোগীর কিডনি জটিলতা দেখা দেয়, ৬০ শতাংশ পায়ের বিকৃতি হয় এবং ২৫ শতাংশ রোগীর ব্রেন স্টেম নিচে নেমে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।"
"গর্ভপূর্ব যত্ন ও ফলিক অ্যাসিডের সেবন ৭০ শতাংশ নিউরাল টিউব ডিফেক্ট প্রতিরোধে কার্যকর। তবে জন্মের পর সময়মতো চিকিৎসা না হলে শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অবস নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতাল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুদিপ্ত কুমার মূখার্জী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০%, ৮৫%, ৬০%, ২৫%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!