📌 বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো একটি নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হওয়া ‘ফিনিক্স প্ল্যানেট’ নামক গ্রহটি আবিষ্কার করেছেন। এই আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে
মহাবিশ্বের গতিশীল চক্রে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু একটি অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়া। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার একটি অদ্ভুত আবিষ্কার করেছেন: একটি নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে জন্ম নেয় একটি গ্রহ। এই আবিষ্কারটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় এই গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার নাম ‘ফিনিক্স প্ল্যানেট’। বিজ্ঞানীরা এই গ্রহটি শনাক্ত করেছেন একটি শ্বেতবামন নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করে, যার নাম ‘এইচএস ০২০৯ প্লাস ০৮৩২’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো একটি নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে জন্ম নেয়া ‘ফিনিক্স প্ল্যানেট’ নামক গ্রহ আবিষ্কার করেছেন।
- 📌 এই গ্রহটি তার নিজের মৃত নক্ষত্রের উপাদান দিয়েই তৈরি হয়েছে, যা পূর্বে অসম্ভব মনে করা হতো।
- 📌 শ্বেতবামনের চারপাশে এই ধরনের গ্রহ খুঁজে পাওয়া ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই গ্রহটি ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ গ্রহ, যা নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ থেকেই তৈরি হয়েছে।
- 📌 মহাকর্ষ বল নক্ষত্রের মৃত্যুতে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের একটি অংশ ধরে রাখে, যা পরবর্তীতে নতুন গ্রহ গঠনে সাহায্য করে।
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কারের পিছনে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পদার্থবিদ্যা বিভাগ। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই গ্রহটি কোনো বাহ্যিক উৎস থেকে আসেনি এবং নক্ষত্রের পূর্বে প্রদক্ষিণ করা কোনো অংশের পুনরুজ্জীবিত রূপও নয়। এটি তার নিজের মৃত নক্ষত্রের উপাদান দিয়েই তৈরি হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পদার্থবিদ্যা অধ্যাপক বরিস গ্যানসিক বলেছেন, “এই গ্রহ অন্য কোথাও থেকে আসেনি বা পুরোনো সিস্টেমের কোনো বেঁচে থাকা অংশও নয়। এটি তার মৃত নক্ষত্রের উপাদান দিয়েই তৈরি হয়েছে।”
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানী জেমি উইলিয়ামস বলেছেন, এই ধরনের গ্রহকে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ গ্রহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কারণ, তারা নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ থেকেই তৈরি হয়। সাধারণত, নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। কিন্তু এই বিশেষ ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বল সেই নিক্ষিপ্ত গ্যাস মেঘের একটি অংশ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। ফলে অবশিষ্ট উপাদানগুলো শ্বেতবামনের চারপাশে একটি ঘূর্ণমান চাকতিতে পরিণত হয়, যা নতুন শিলা ও গ্যাস জমা হওয়ার জন্য একটি ধূলিময় আঁতুড়ঘর তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রহ তৈরি হয়েছে।
উইসকনসিন-ম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের বিজ্ঞানী নিকোলাস স্টোন বলেছেন, এই গ্রহের উপাদান বিন্যাস ‘এস-প্রসেস’ বা ভারী মৌল তৈরি প্রক্রিয়ার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ। সাধারণ প্রথম প্রজন্মের কোনো গ্রহের মধ্যে এই ধরনের উপাদান থাকার কথা নয়। এই আবিষ্কারটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং মহাবিশ্বের গ্রহ গঠনের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে পারে।
"এই গ্রহ অন্য কোথাও থেকে আসেনি বা পুরোনো সিস্টেমের কোনো বেঁচে থাকা অংশও নয়। এটি তার মৃত নক্ষত্রের উপাদান দিয়েই তৈরি হয়েছে।"
— অধ্যাপক বরিস গ্যানসিক, ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহাবিশ্ব (শ্বেতবামন নক্ষত্র এইচএস ০২০৯ প্লাস ০৮৩২ এর চারপাশে)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক বরিস গ্যানসিক, জেমি উইলিয়ামস, নিকোলাস স্টোন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ (একটি গ্রহ আবিষ্কার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!