📌 বাংলাদেশে ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত, বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোগী রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ডিমেনশিয়া নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠেছে। পরিবার ও সমাজের উপর এই রোগের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে
বাংলাদেশে ডিমেনশিয়া রোগের বিস্তার একটি জটিল মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জীবনের শেষ পর্যায়ে স্মৃতি হারিয়ে নিজের পরিচয়ও ভুলে যাওয়া মানুষদের জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার ও সমাজের উপর এই রোগের চাপ ক্রমবর্ধমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০১৭ সালের বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার অধীনে বাংলাদেশও অন্তত ৭৫ শতাংশ দেশের মতো নিজস্ব ডিমেনশিয়া নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু এখনো কোনো জাতীয় রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ (১১ লাখ+) ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত, যা ২০৫০ সালের মধ্যে তিন গুণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে
- 📌 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৭ সালের প্রতিশ্রুতির অধীনে বাংলাদেশও ৭৫ শতাংশ দেশের মতো নিজস্ব ডিমেনশিয়া নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্বে বাধ্য
- 📌 ডিমেনশিয়া রোগীর যত্নের ৭০ শতাংশ ব্যয় পরিবার ও ব্যক্তি পকেট থেকে মেটায়, যা অর্থনৈতিকভাবে পরিবারকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করছে
- 📌 ভারত ও শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে ডিমেনশিয়া যত্নের জাতীয় কাঠামো গড়ে তুলেছে, বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে
- 📌 রোগীরা নিজের পরিচয়, পরিবার ও বাসভিটা মনে করতে পারেন না, যা মানবিক ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (জিবিডি) রিপোর্ট অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ডিমেনশিয়া দ্রুততম সময়ে শারীরিক অক্ষমতা ও পরনির্ভরশীলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ ডিমেনশিয়া রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ, যা ২০৫০ সালের মধ্যে তিন গুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই রোগের চূড়ান্ত ধাপে একজন ব্যক্তি খাওয়া, গোসল বা টয়লেটে যাওয়ার মতো ন্যূনতম কাজগুলোও নিজে করতে পারেন না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৭ সালের ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে গৃহীত ডিমেনশিয়া–বিষয়ক বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, সদস্যদেশগুলোর অন্তত ৭৫ শতাংশ দেশে নিজস্ব ডিমেনশিয়া কর্মকৌশল বা পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করা ছিল মূল লক্ষ্যমাত্রা। বাংলাদেশ এখনো কোনো জাতীয় রূপরেখা চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফলে বৈশ্বিক ফোরামে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদেই এই নীতি প্রণয়ন এখন আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে।
ডিমেনশিয়া রোগীর যত্নের ভার গিয়ে পড়ে পরিবারের কাঁধে। বিশেষায়িত ডে-কেয়ার বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকেন্দ্রের তীব্র ঘাটতির কারণে রোগীর যত্নের দায়িত্ব পরিবারকে বহন করতে হয়। এই যত্নের ৭০ শতাংশ ব্যয় পরিবার বা ব্যক্তি পকেট থেকে মেটায়, যা অর্থনৈতিকভাবে পরিবারকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করছে। পরিবারের প্রধান শিকার হন নারী সদস্যরা, যারা ‘কেয়ারগিভার বার্নআউট’ বা সেবাদানকারীর শারীরিক ও মানসিক চরম অবসাদের শিকার হন।
"জীবনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যে মানুষটি পরম মমতায় নিজের পরিবার ও সমাজকে গড়ে তুলেছিলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি যখন নিজের চেনা বসতভিটা, প্রিয় সন্তান, এমনকি নিজের নামটি পর্যন্ত মনে করতে পারেন না—তখন এর চেয়ে গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি আর কিছু হতে পারে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ডিমেনশিয়া রোগীরা, পরিবার সদস্য
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ শতাংশ (৬০+ জনসংখ্যা), ১১ লাখ (বর্তমান রোগী), ৭৫ শতাংশ (ডব্লিউএইচও লক্ষ্যমাত্রা), ৭০ শতাংশ (ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!