📌 নাসার বিজ্ঞানীরা নতুন পদ্ধতিতে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের ঋতুভেদে নড়াচড়ার সঠিক পরিমাণ মাপেছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ঋতু পরিবর্তনের সাথে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র কয়েক মিলিমিটার এদিক-ওদিক সরে যায়। আগের হিসাবের সাথে ৭ মিলিমিটার পর্যন্ত পার্থক্য ছিল
পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের ঋতুভেদে নড়াচড়ার সঠিক পরিমাণ মাপার জন্য নাসার বিজ্ঞানীরা নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই গবেষণা অনুসারে, পৃথিবীর ভরকেন্দ্র জ্যামিতিক কেন্দ্রের তুলনায় ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে কয়েক মিলিমিটার এদিক-ওদিক সরে যায়। এই নড়াচড়া কৃত্রিম উপগ্রহের অবস্থান নির্ণয়, মানচিত্র তৈরিতে এবং পৃথিবীর উচ্চতা মাপার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাসার বিজ্ঞানীরা নতুন পদ্ধতিতে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের ঋতুভেদে নড়াচড়ার সঠিক পরিমাণ মাপেছেন
- 📌 ঋতু পরিবর্তনের সাথে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের নড়াচড়ার পরিমাণ ২-৩ মিলিমিটার
- 📌 আগের দুটি আন্তর্জাতিক হিসাবের মধ্যে ০.২৭ ইঞ্চি বা ৭ মিলিমিটার পার্থক্য ছিল
- 📌 নতুন পদ্ধতিতে লেজার, জিপিএস এবং উপগ্রহের কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে
- 📌 পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের নড়াচড়া কৃত্রিম উপগ্রহের গতিপথের তথ্য থেকে নির্ধারণ করা হয়
- 📌 ১৯৭৬ ও ১৯৯২ সালে উৎক্ষেপিত লেজিওস ১ ও লেজিওস ২ উপগ্রহের ওজন প্রায় ৪০৮ কেজি
📰 বিস্তারিত
দূর থেকে পৃথিবীকে দেখলে মনে হয় এটি স্থির একটি গোলক। কিন্তু আসলে পৃথিবীর ভেতরে ও বাইরে অবস্থিত সমুদ্রের পানি, বরফ, বৃষ্টি, তুষার এবং বাতাসের ওজন পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই উপাদানগুলির পরিমাণ ও অবস্থান পরিবর্তিত হয়, ফলে পৃথিবীর ভরকেন্দ্র জ্যামিতিক কেন্দ্রের চারপাশে সামান্য ঘুরতে থাকে। এই নড়াচড়ার পরিমাণ সাধারণত কয়েক মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের অবস্থান মাপছেন। তবে আগের হিসাবগুলোতে কিছুটা পার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ২০১৭ ও ২০২৩ সালে করা দুটি আন্তর্জাতিক হিসাবের মধ্যে পার্থক্য ছিল ০.২৭ ইঞ্চি বা প্রায় ৭ মিলিমিটার। এটি প্রায় তিনটি এক টাকার ধাতব কয়েনের উচ্চতার সমান। নতুন পদ্ধতিতে এই পার্থক্য কমিয়ে আনা হয়েছে।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির (জেপিএল) ভূবিজ্ঞানী ডোনাল্ড আরগাসের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী এই নতুন পদ্ধতি তৈরি করেছেন। তারা কৃত্রিম উপগ্রহের অত্যন্ত নির্ভুল গতিপথের তথ্য ব্যবহার করেছেন। মহাকর্ষের কারণে উপগ্রহগুলো পৃথিবীর ভরকেন্দ্রকে ঘিরে ঘোরে, তাই তাদের অবস্থান থেকে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই কাজে লেজার, জিপিএস এবং নিচু কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি ও বরফের ওজন পৃথিবীর ভূত্বককে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা হিসাবেও রাখা হয়েছে।
১৯৭৬ ও ১৯৯২ সালে উৎক্ষেপিত লেজিওস ১ ও লেজিওস ২ নামের দুটি বিশেষ উপগ্রহ এই কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি উপগ্রহের ওজন প্রায় ৪০৮ কেজি। এই উপগ্রহগুলোতে প্রতিফলক বসানো আছে, যেগুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভূ-স্টেশন থেকে লেজার পাঠিয়ে তাদের অবস্থান খুব নিখুঁতভাবে মাপা হয়। তবে এই পদ্ধতির একটি সমস্যা ছিল পৃথিবীর সব জায়গায় ভূমির স্টেশন সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। নতুন পদ্ধতিতে এই সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।
"তাঁদের নতুন হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছর পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের এদিক-ওদিক নড়াচড়ার পরিমাণ আট বছর আগের ধারণার প্রায় অর্ধেক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পৃথিবী, মহাকাশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড আরগাস (নাসার বিজ্ঞানী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০.২৭ ইঞ্চি (৭ মিলিমিটার পার্থক্য), ৪০৮ কেজি (লেজিওস উপগ্রহের ওজন), ২-৩ মিলিমিটার (ভরকেন্দ্রের নড়াচড়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!