📌 নামিবিয়ার মরুভূমিতে একটি ১৪ বছর বয়সী হাতি মৃত শাবককে বহন করে চলেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি শোকের প্রতিক্রিয়া বা শিকারি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা হতে পারে। এই আচরণের পেছনে গভীর অনুভূতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে
নামিবিয়ার মরুভূমিতে একটি মাদি হাতি মৃত শাবককে শুঁড় দিয়ে বহন করে চলেছে। এই দৃশ্য দেখে বিজ্ঞানীরা হাতিদের গভীর অনুভূতির কথা চিন্তা করছেন। আলোকচিত্রী ফেদেরিকো ভেরোনেসি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই দৃশ্য ধারণ করেন। তিনি দেখেন, হাতিটি শাবকটির পা শুঁড়ের চারপাশে জড়িয়ে নিথর দেহটিকে বাতাসে ঝুলিয়ে নিয়ে হেঁটে চলেছে। মাঝেমধ্যে হাতিটি শাবকটিকে মাটিতে নামিয়ে খাবার খেতে বা পানি পান করতে দেয়। এরপর আবার শাবকটিকে তুলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে। এই ছবিটি ২০২৬ সালে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বর্ষসেরা বন্য প্রাণী আলোকচিত্র পুরস্কার জিতেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নামিবিয়ার মরুভূমিতে ১৪ বছর বয়সী হাতি মৃত শাবককে বহন করে চলেছে, যা প্রথমবারের মতো নথিবদ্ধ হয়েছে
- 📌 হাতিটি শাবকটিকে মাটিতে নামিয়ে খাবার খেতে বা পানি পান করতে দেয়, পরে আবার তুলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি শোকের প্রতিক্রিয়া বা শিকারি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা হতে পারে
- 📌 নামিবিয়ার মরুভূমিতে বাস করে প্রায় ১৫০টি হাতি, যার মধ্যে শাবকদের মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক
- 📌 গত ২০ বছরে হাতির সংখ্যা কমেছে, খরা ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা জানান, এই হাতির বয়স ১৪ বছর। দুই বছর আগে নিজের শাবক হারানোর পর থেকে অন্য হাতির মৃত শাবক বয়ে নিয়ে যেতে চারবার দেখা গেছে। নামিবিয়ার মরুভূমির হাতি সংরক্ষণে কাজ করা সংস্থা এলিফ্যান্ট হিউম্যান রিলেশনস এইডের পরিচালক ক্রিস্টিন উইন্টার বলেন, এই আচরণের পেছনে শোকের প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। হাতিটি নিজের শাবক হারানোর শোক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য কোনো হাতির শাবক মারা গেলে সেই পুরোনো স্মৃতি আবার ফিরে আসতে পারে। তবে কোন কারণটি সত্য, তা নিশ্চিত করে বলার মতো যথেষ্ট তথ্য এখনো নেই।
বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, মৃত শাবকটিকে শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইতে পারে হাতিটি। নামিবিয়ার মরুভূমিতে বাস করে প্রায় ১৫০টি হাতি। এদের মধ্যে শাবকদের মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত ২০ বছরে হাতির সংখ্যা কমেছে। দীর্ঘ খরা ও পরিবেশগত চাপ এর একটি কারণ। তবে মানুষের সঙ্গে সংঘাতও বড় সমস্যা। পানির খোঁজে হাতিরা কখনো খামারে ঢুকে পানির ট্যাংক ফেলে দেয়, পাইপ উপড়ে ফেলে বা পানির পাম্প ভেঙে দেয়। এতে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে হাতির বিরোধ বাড়ে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানান, নবজাতক হাতির মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ১৬টি শাবকের মধ্যে বেঁচে ছিল মাত্র দুটি। বিশেষজ্ঞদের একটি ধারণা, মাদি হাতিরা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে শাবককে পূর্ণ সময় গর্ভে রাখতে পারছে না। ফলে কিছু শাবক সময়ের আগেই জন্ম নিচ্ছে।
"এই ছবি হাতিদের গভীর অনুভূতির একটা ছোট্ট জানালা খুলে দেয়। আমরা অনেক সময় প্রাণীদের শুধু এদের আচরণ দিয়ে বিচার করি। কিন্তু এদেরও যে জটিল অনুভূতি থাকতে পারে, এ ঘটনা সেটাই মনে করিয়ে দেয়।"
বিজ্ঞানীরা আরও বলেন, হাতির আচরণকে শুধু সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এদের সামাজিক সম্পর্ক, স্মৃতি ও অনুভূতি আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। আলোকচিত্রী ফেদেরিকো ভেরোনেসি বলেন, এই ঘটনাটি ছিল অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, এই ছবি হাতিদের অনুভূতির একটা ছোট্ট জানালা খুলে দেয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নামিবিয়ার মরুভূমি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফেদেরিকো ভেরোনেসি, ক্রিস্টিন উইন্টার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ বছর (হাতির বয়স), ১৫০টি (মরুভূমির হাতি), ২০ বছর (হাতির সংখ্যা কমার সময়কাল), ১৬টি (জন্ম নেওয়া শাবক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!