📌 মধ্য আমেরিকার নিকারাগুয়ার মাসায়া আগ্নেয়গিরির (মাউথ অব হেল) ভূগর্ভে দুটি ম্যাগমা রিজার্ভার পূর্ণ হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সম্ভাব্য বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বেড়েছে। নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়া থেকে মাত্র ১৩ মাইল দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি থেকে নিয়মিত সালফার গ্যাস নির্গত হয়
মধ্য আমেরিকার নিকারাগুয়ার ভয়ংকর আগ্নেয়গিরি মাসায়া বা মাউথ অব হেলের ভূগর্ভে নতুন করে ম্যাগমা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ার ২০ লাখ বাসিন্দা ও পর্যটকদের বসবাসস্থল থেকে মাত্র ১৩ মাইল দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির গভীরে দুটি আলাদা ম্যাগমা রিজার্ভার পূর্ণ হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাসায়া আগ্নেয়গিরির ভূগর্ভে দুটি ম্যাগমা রিজার্ভার পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা সম্ভাব্য বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে
- 📌 নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়া থেকে মাত্র ১৩ মাইল দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি থেকে প্রতি বছর সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী লিজ জনসন বলেছেন, ম্যাগমা চলাচলের জটিল নেটওয়ার্কের কারণে আগামী বিপদের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন
- 📌 ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এলাকার ভূমি উঠে আসার কারণে নতুন ম্যাগমা প্রবেশের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে
- 📌 গত ৫০ বছরে এখানে ছোট বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি
📰 বিস্তারিত
মাসায়া আগ্নেয়গিরি, যা স্থানীয়ভাবে "মাউথ অব হেল" নামে পরিচিত, পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এই আগ্নেয়গিরির ভূগর্ভে দুটি আলাদা ম্যাগমা রিজার্ভার পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিকারাগুয়ার রাজধানী মানাগুয়ার ২০ লাখ বাসিন্দা ও পর্যটকদের বসবাসস্থল থেকে মাত্র ১৩ মাইল দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি থেকে প্রতি বছর সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী লিজ জনসন বলেছেন, মাসায়া আগ্নেয়গিরির ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা চলাচলের স্থান অনেক বেশি জটিল। এই জটিল সুড়ঙ্গ ও রিজার্ভারের নেটওয়ার্কের কারণে আগামী বিপদের পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১৭৭২ সালের পর থেকে এই আগ্নেয়গিরি বড় কোনো লাভা প্রবাহ তৈরি করেনি, তবে নিয়মিত বিপজ্জনক মাত্রায় সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়।
গত ৫০ বছরে এখানে একাধিক ছোট বিস্ফোরণ ঘটেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমি নিচে নেমে যাওয়ার অর্থ হলো সম্ভবত ম্যাগমা সরে যাচ্ছে। কিন্তু যখন ভূমি আবার ওপরে উঠতে শুরু করে, তখন তার অর্থ হলো নতুন ম্যাগমা ভেতরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই এলাকার ভূমি আবার ওপরে উঠতে শুরু করে, যা ইঙ্গিত দেয় রিজার্ভার আবার ম্যাগমা দিয়ে পূর্ণ হচ্ছে।
সান্তিয়াগো ক্রেটার এবং এর লাভা হ্রদের চারপাশের ভূমি পুরো ছয় বছর ধরে সংকুচিত হয়েছে। এর অর্থ হলো মাটির প্রায় ৬৫৬ ফুট বা ২০০ মিটার গভীরে আরেক অগভীর এবং সক্রিয় রিজার্ভার লুকিয়ে রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সান্তিয়াগো ক্রেটার নামের লাভাপূর্ণ এই আগ্নেয়গিরির গহ্বর দেখতে ভিড় করেন। বিজ্ঞানীরা এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সম্ভাব্য বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বাড়ানোর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
"মাসায়া আগ্নেয়গিরির ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা চলাচলের স্থান অনেক বেশি জটিল। এই জটিল সুড়ঙ্গ ও রিজার্ভারের নেটওয়ার্ক নিখুঁতভাবে না বুঝলে আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিকারাগুয়া, মানাগুয়া (রাজধানী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী লিজ জনসন (পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ (মানাগুয়ার বাসিন্দা), ১৩ মাইল (মাসায়া থেকে মানাগুয়ার দূরত্ব), ৬৫৬ ফুট (২০০ মিটার) গভীরে ম্যাগমা রিজার্ভার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!