📌 মানুষের কর্মকাণ্ড ও শব্দের চাপে হিমালয়ের মোনাল পাখির ডাকের স্বর ও আবাসস্থল পরিবর্তিত হচ্ছে। গবেষণা দেখায়, পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে পাখিটি উচ্চাঞ্চলে সরে যাচ্ছে এবং ডাকের কম্পাঙ্ক বাড়ছে
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী মোনাল পাখির জীবনযাত্রা মানুষের ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডের কারণে বদলে যাচ্ছে। ভারতীয় গবেষকদের দুটি পৃথক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শব্দের চাপের কারণে এই সুন্দর পাখির ডাকের স্বর পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তারা ক্রমেই উচ্চাঞ্চলে সরে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোনাল পাখির ডাকের কম্পাঙ্ক বাড়ছে — পর্যটনকেন্দ্রে শব্দের চাপে পাখির ডাকের স্বর পরিবর্তিত হচ্ছে, স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে
- 📌 উচ্চাঞ্চলে সরে যাচ্ছে মোনাল — জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের বসতির কারণে পাখির উপযুক্ত আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে
- 📌 ২১০০ সালের মধ্যে আবাসস্থল আরও সংকুচিত — গবেষণায় পূর্বাভাস, তুষার গলে উচ্চাঞ্চলে উদ্ভিদ বৃদ্ধির কারণে পাখির প্রবেশ সহজ হচ্ছে
- 📌 ৭০০ টির বেশি মোনালের ডাক রেকর্ড করা — উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ অভয়ারণ্যে গবেষণায় ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে ডাকের বিশ্লেষণ করা হয়
📰 বিস্তারিত
হিমালয়ের পার্বত্য বনাঞ্চলের বাসিন্দা মোনাল পাখি ফিজ্যান্ট গোত্রের একটি দৃষ্টিনন্দন পাখি। পুরুষ মোনালের সবুজ, নীল ও তামাটে রঙের পালক তাকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই পাখি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজ্য পাখি এবং নেপালের জাতীয় পাখি। উত্তরাখণ্ডের হেমবতী নন্দন বহুগুণা গড়ওয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. রাজীব লোচনের নেতৃত্বে পরিচালিত দুটি গবেষণায় মোনালের ওপর মানুষের চাপের প্রভাব উঠে এসেছে।
প্রথম গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের দখলের কারণে মোনালের উপযুক্ত আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। গবেষকদের মডেলিং অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে ভারতীয় হিমালয়ে মোনালের আবাসস্থল আরও সংকুচিত ও অস্থিতিশীল হতে পারে। তুষার গলে উচ্চাঞ্চলে উদ্ভিদ জন্মাচ্ছে, যা পাখির প্রবেশ সহজতর করছে। অন্যদিকে, নিচের আলপাইন তৃণভূমিতে মানুষের বসতি, পর্যটন ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড বাড়ায় মোনালকে উচ্চাঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য করছে। ফলে তাদের আবাসস্থল ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পাখিটির সংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
দ্বিতীয় গবেষণাটি উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার অভয়ারণ্যের দুটি উপত্যকায় — কোলাহলপূর্ণ চোপতা এবং নিরিবিলি মধমহেশ্বর — চালানো হয়। গবেষকরা ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এক বছর ধরে ৭০০ টির বেশি মোনালের ডাক রেকর্ড করেন। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কোলাহলপূর্ণ এলাকায় মোনালের ডাকের কম্পাঙ্ক বাড়ছে এবং ডাকের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। গবেষকদের ধারণা, যানবাহন ও পর্যটকদের তৈরি নিম্ন-কম্পাঙ্কের শব্দের মধ্যে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে পাখিগুলো ডাকের ধরন পরিবর্তন করছে।
ড. রাজীব লোচন বলেছেন, এটি পাখিটির স্থায়ী বিবর্তনগত পরিবর্তনের প্রমাণ নয়, বরং ভিন্ন শব্দপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর একটি সক্ষমতা। পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বিশাল সিং মোনালের এই পরিবর্তনকে হিমালয়ের পরিবেশগত চাপের একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, কোনো প্রজাতিকে যদি নিজের ‘কণ্ঠস্বর’ এবং ‘ঠিকানা’ বদলাতে হয়, তাহলে আরও সংবেদনশীল প্রজাতিগুলোর অবস্থা কী, সেটিও ভাবার বিষয়।
"অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত চাপ হিমালয়ের ভঙ্গুর প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তরাখণ্ড (ভারত), কেদারনাথ মাস্ক ডিয়ার অভয়ারণ্য, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. রাজীব লোচন, বিশাল সিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭০০ টি (মোনালের ডাক রেকর্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!